Home / জাতীয় / কাটা হচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছায়াবৃক্ষ
23 9 25 2

কাটা হচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছায়াবৃক্ষ

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রধান ফটক থেকে হাদি চত্বর পর্যন্ত জীবিত ১৬টি গাছের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। এসব ছায়াবৃক্ষ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও আড্ডায় তীব্র রোদ থেকে রক্ষা করত। গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত দুজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুলনার দৌলতপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। ব্যবসায়ী জাহিদ খান কালবেলাকে বলেন, ‘নিলামের মাধ্যমে আমি মৃত গাছ কিনেছি।’

গাছ কাটার বিষয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে পুরোনো গাছ কেটে নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক ফরেস্টি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাক্কিবু বলেন, যুক্তিসংগত কারণে মৃত এবং মৃতপ্রায় গাছ বাছাই করে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাছ কাটায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘উন্নয়নের নামে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংসের এ আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক। মেহগনি গাছ ছাঁটাই নয়, যেন পরিকল্পিত হত্যা!’

ইংরেজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলহামজা সিমন বলেন, ‘ক্যাম্পাস ক্রমেই ইট-পাথর-কংক্রিটে ঢাকা পড়ছে। প্রশাসনের উদাসীনতায় অনেক গাছ অর্ধমৃত হয়ে গেছে। মেইন গেট থেকে হাদি চত্বর পর্যন্ত সারিবদ্ধ গাছগুলোর মাথা কেটে ফেলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯টি গাছ ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শনিবার পর্যন্ত ১০৪টি গাছ কাটা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর, অদম্য বাংলা, লেক পাড় ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের আশপাশের গাছ কাটা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে রেইন ট্রি, মেহগনি, অর্জুন, কড়ই, শিশু, দেবদারু, গামারি, আকাশমনি, ছাতিম, চাম্বল, জারুল, আম, জাম ও নারিকেল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এ বিষয়ে বলেন, ‘যে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে সব মৃত বা অর্ধমৃত। আমরা এরই মধ্যে দ্বিগুণ গাছ লাগিয়েছি।’ জীবিত গাছের মাথা কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গাছের ডাল-পালা ছেঁটে দেওয়া বিষয়ে বলেছিলাম। তারা ভুল করে মাথা কেটে ফেলেছে। বিষয়টি জানার পরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে।’

এর আগে ‘লাক্কা’ নামক ভাইরাস অপসারণের জন্য গত ১২ ফেব্রুয়ারি এস্টেট শাখা একটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯টি রেইন ট্রি/শিশু গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং আক্রান্ত ডালপালা উন্মুক্ত নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির সভায় বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে জানা যায়, এর আগেও ‘লাক্কা’ আক্রান্ত গাছ বিক্রির দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিছু শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে গত বছরের ডিসেম্বরে সেটি স্থগিত করা হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় কমিটি গঠন করে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পাঁচ মাস পর সরেজমিন দেখা যায়, আক্রান্ত গাছগুলো এরই মধ্যে মারা গেছে। এরপর ১২ আগস্ট মৃত গাছগুলো বিক্রির জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এস্টেট শাখার প্রধান শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গাছে ভাইরাস হলে তা দ্রুত কাটতে হয়। দেরি হলে গাছ মারা যায়। গত ডিসেম্বরে টেন্ডার দিতে গেলে কিছু শিক্ষার্থী তা স্থগিত করে দেয়। পরে ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় টেন্ডার দেওয়া হয়। এজন্যই গাছগুলো বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

গাছের মাথা কেন কাটা হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, সেজন্য কাটা হয়েছে। আমরা শুধু দায়িত্ব পালন করি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মো. আহসানুর রহমান বলেন, ‘লাক্কা নামক ভাইরাসের কারণে দেরিতে ডাল কাটা হয়েছে বলে গাছ মারা গেছে, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর থেকে মেইন গেট পর্যন্ত যেসব গাছের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে—এটা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। একটি গাছের টিপ কেটে ফেললে তার আর স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে না। কর্তৃপক্ষ বলছে এটা প্রুনিং; কিন্তু এটাকে সাধারণত ‘টপিং’ বলা হয়। এ পদ্ধতি গাছের জন্য ক্ষতিকর, এমনকি এর আয়ুও কমিয়ে দিতে পারে।’ সূত্র : কালবেলা

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …