ঢাকা, মঙ্গলবার ২৯ এপ্রিল ২০২৫ মাসস
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ে নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ।
বাড়িওয়ালাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়ন্ত্রণহীন ভাড়া বৃদ্ধির ফলে প্রাণ ওষ্ঠাগত রাজধানীবাসীর। বাসার মান বা সুবিধা না বাড়লেও প্রতি বছরই বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য বলছে, গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ।
রাজধানীর বনশ্রীর ডি ব্লকে স্ত্রী, এক কন্যা আর দুই ছোট ভাইকে নিয়ে দুই কক্ষের ছোট একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মো. আজহার শাহিন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এমন অবস্থা শুধু একজন আজহার শাহিনের নয়। ঢাকা শহরে বাসস্থানের সংকট দীর্ঘদিনের, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংকট যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে রাজধানিতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ। অর্থাৎ এ সময়ে নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ।
সংগঠনটির অন্য এক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া প্রায় ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যয় করে বাড়িভাড়া পরিশোধে।
পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘মাত্র তিন বছরের মধ্যে আমার বাসার ভাড়া ১২ হাজার টাকা থেকে ১৮ হাজারে উঠে গেছে। কিন্তু বাসার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বারান্দা ভাঙা, পানির লাইন নষ্ট, তবু বাড়িওয়ালা শুনছেন না কিছুই।’
অনেকে অল্প টাকায় থাকার জন্য অনিরাপদভাবে থাকছে। ভাটারা এলাকায় গ্যারেজের মতো একটি রুমে থাকেন গার্মেন্টসকর্মী সালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘টিনের ছাউনির একটি রুম, গরমে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবু এখানে থাকি। কারণ অন্য কোথাও ভাড়া অনেক বেশি।’ উত্তরার একটি নির্মীয়মাণ ভবনের পাশে বসবাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার। এসব পরিবার কনটেইনার বাসায় থাকে। তাদের মতে, চাইলেও ভালো জায়গায় যাওয়া সম্ভব নয়। আট থেকে ১০ হাজার টাকায় কোনো বাসা মেলে না। আর যেখানে মেলে সেখানে পানি, গ্যাস কিছুই ঠিকঠাক মেলে না।
সূত্র : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম