Home / উন্নয়ন / ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন
sylhat+mbd-2

৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
সিলেট । ১৮ এপ্রিল ২০১৮ । ০৫ বৈশাখ ১৪২৪

দেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের ৯ বছরে (২০০৯-২০১৭) সিলেটসহ দেশব্যাপী নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এরমধ্যে বিশেষকরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে দেশব্যাপী এই সার্বিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাপক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। আরো অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় সিলেট বিভাগের প্রথম হেলথ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপন করা হয়েছে। এই ইন্সটিটিউটে ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ফিজিও থেরাপি, ডেন্টিস্ট ও ফার্মেসি এই ৫টি অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া নতুন করে চালুর প্রক্রিয়ার রয়েছে স্পেশালাইজড ডিপ্লোমা কমিউনিটি হেলথ কোর্স। এখানে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২৫৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে প্রায় এক হাজার। সিলেটে এমন একটি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্বজ্জনরা।

১৬ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট মহানগরী সংলগ্ন সদর উপজেলার খাদিম পাড়ায় নির্মিত হয়েছে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট শাহপরান (রহঃ) হাসপাতাল। ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালে উদ্বোধন করেন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে মোট ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একই সাথে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯৬ সালে স্থাপিত ১৮৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক মেরামত ও পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি নতুন আরো ৭৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা লাভের পথ সুগম হয়েছে। ২০০৯ সালে সিলেটে স্বাস্থ্য খাতে সেবাগ্রহীতার মোট সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩১ জন। এরপর প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ সালে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৯ জনে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের আমেেল জেলার উত্তর-পূর্বের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করায় এখন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মিলছে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা।

জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের সাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
২০১৩ সালে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যা এবং ১১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্বনাথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

এছাড়া ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীতের কাজ চলছে। এবছরের মাঝামাঝি নাগাদ এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়।

দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে শিশু হাসপাতাল নির্মাণে বর্তমান সরকারের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার হিসেবে সিলেটের পুরাতন মেডিকেল হিসেবে পরিচিত শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিশু হাসপাতাল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই শিশু হাসপাতাল চালু হলে সিলেট বিভাগের শিশু চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিভিল সার্জন।

তিনি আরো বলেন, সিলেটের শিশু চিকিৎসা এখন বহুলাংশেই ওসমানী হাসপাতাল নির্ভর। এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু হলে ওসমানী হাসপাতালের উপর থেকে চাপ লাঘব হবে এবং এই অঞ্চলের শিশু স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপক মানোন্নয়ন হবে। এখানে শিশু রোগ নিরাময়ের সকল ডিপার্টমেন্ট থাকবে এবং শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণারও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সিলেট বিভাগের একমাত্র ৫০০ শয্যার সরকারী হাসপাতাল সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সুযোগ আরো বৃদ্ধি করতে হাসপাতালটিকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে এর সেবার মান। এর উন্নয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে ও কিছু বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। হাসপাতালটির গতিশীলতার লক্ষ্যে এর জরুরী বিভাগকে নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে সিলেটের দক্ষিন সুরমার আতিয়া মহলে জঙ্গি হামলা পর এবং এছাড়া অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসায় এই হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রশংসনীয় সেবার স্বাক্ষর রেখে চলছে। অনন্য এই সেবা কার্যক্রমের জন্য ২০১৭ সালে জরুরী সেবায় সেরা হাসপাতালের মর্যাদা লাভ করে সিলেটের এই এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

হাসপাতালটির স্বল্প পরিসরের ক্যাজুয়াল্টি বিভাগকে নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তর করায় শীঘ্রই এর কর্মপরিসর বৃদ্ধি পাবে। ৪ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ বিভাগও ১০ শয্যায় উন্নীত করে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ঔষধ সরবরাহ করায় রোগীরা এখান থেকে পাচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা।

আইসিইউ বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সোহেল জানান, সিলেট বিভাগের একমাত্র সরকারী মেডিকেল কলেজ হিসেবে এখানে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকলেও প্রয়োজনীয় আইসিইউর শয্যা সংখ্যা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির অভাব ছিল। কিছুদিন পূর্বেও পর্যাপ্ত শয্যা সংখ্যা না থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় এখন রোগীরা এখানে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে।’

জানা যায়, শরীরে লবণ ঘাটতি ও অস্ত্রোপচারজনিত ইনফেকশন নিয়ে ১১ জানুয়ারী আইসিইতে ভর্তি হন ১৭ বছর বয়সী রাসেল আহমদ। এর আগে রাসেল সিলেটের দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে গেলেও গুরুতর অবস্থার কারণে কেউ তাকে ভর্তি করতে রাজি না হওয়ায় সে ওসমানী মেডিকেল কলেজে এস ভর্তি হয়। এখানে আইসিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের নিরলস পরিশ্রমে রাসেল এখন অনেকটাই সুস্থ। শীঘ্রই ছাড়পত্র মিলবে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের।

রাসেলের রোগ ও চিকিৎসার ব্যাপারে ডাঃ সোহেল জানান, এই রোগী মোটা হবার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড গ্রহণ করতো, যা তার শরীরে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তার ফুসফুস সঠিকভাবে কাজ করছিলো না এবং তার একটি ল্যাপারেটমি অপারেশন হয়েছে যাতে ইনফেকশন ধরা পড়ে। আমাদের কাছে যখন তাকে পাঠানো হয় তখন তাকে সুস্থ করাটাই ছিলো আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটির বহির্বিভাগে দৈনিক প্রায় ৫ হাজার রোগী সেবা লাভ করে। এই হাসপাতালটি ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ পুরস্কার এবং ২০১২ সালে প্রসুতি স্বাস্থ্য পরিচর্যায় সেরা প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার পায়।

প্রতিষ্ঠানটির উপ পরিচালক ডাঃ দেবপদ রায় বাসসকে বলেন, সিলেট বিভাগের একমাত্র মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল হিসেবে ইতোমধ্যে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য একটি অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন এসেছে। এছাড়া ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য শিগগির একটি অত্যাধুনিক কোবাল্ট-৬০ রেডিওথেরাপি মেশিনও সংযোজনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 2

কারাগারে ঈদ ১৬১ ভিআইপির

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.