Home / বিনোদন / নাটক / হাসি আছে, হাসি নেই…ফিরে এসো কৌতুক..
COM

হাসি আছে, হাসি নেই…ফিরে এসো কৌতুক..

মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ১৮ মে ২০১৮ । ৪  জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

জীবন যখন জটিল মনে হয়, কৌতুক তাতে এনে দেয় কিছু স্বস্তি। বিনোদনের প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে মানুষকে আনন্দ দেওয়া। চলচ্চিত্র হচ্ছে সেই বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কৌতুক হচ্ছে চলচ্চিত্রের প্রাণরস।  কৌতুক অভিনেতারা  তাদের অভিনয়ে এই আনন্দ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। দেশের চলচ্চিত্রে ষাট দশক থেকে যে কয়েক জন কৌতুক অভিনেতা দর্শকদের কাছে অধিক জনপ্রিয় ছিলেন তাদের অনেকেই  এখন না ফেরার দেশে। তবু তাঁদের অভিনয় দেখে এখনও মনে আনন্দ জাগে। কষ্টের ভেতরেও হাসি জাগে।

K1

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দেশীয় চলচ্চিত্রে ষাট দশক থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যে ক’জন কৌতুক অভিনেতা স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে আছেন তাদের অন্যতম অগ্রজ খান জয়নুল। নাচের পুতুল সিনেমায় বাবুগিরি করে বেড়ানো নায়িকার ছোট ভাই, ছন্দ হারিয়ে গেল’তে সেই অর্থকষ্টে থাকা অথচ প্রফুল্ল বন্ধু, অবুঝ মন’র কম্পাউন্ডার ইত্যাদি চরিত্রগুলোতে লাফালাফি ঝাপাঝাপি না করে শুধু ভ্রু আর মুখের ভাঁজের অনবদ্য অভিনয় দিয়ে প্রচণ্ড হাস্যমুখর পরিবেশ তৈরি করতে পারার অসামান্য ক্ষমতা তার।  তিনি সালাউদ্দিন  প্রযোজিত-পরিবেশিত এবং বশীর হোসেন পরিচালিত ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার কাহিনীকার এবং সংলাপ রচয়িতা। এ ছবিতে সুমিতা দেবী, সুজাতা, খান জয়নুল ও আলতাফ অভিনয় করেছেন। ছবির আরেকটি কারণে ইতিহাস হয়ে রয়েছে। এ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে নায়করা রাজ্জাক অভিনয়ের সুযোগ পান। ছবিটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন সত্য সাহা, চিত্রগ্রহণে এম এ সামাদ, নেপথ্য কন্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান এই কৌতুক অভিনেতা। ৪২ বছরের জীবনে তিনি প্রায় পঞ্চাশের মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে সুতরাং, কাঁচকাটা হীরে, সন্তান, পদ্মানদীর মাঝি, দর্পচুর্ণ, সপ্তডিঙ্গা, মিশর কুমারী, অন্তরঙ্গ, মাটির মায়া, অশান্ত ঢেউ, দিনের পর দিন, স্মৃতি তুমি বেদনা, ময়নামতি, সাইফুল মুলুক বদিউজ্জামান, গোপাল ভাঁড়, মধু মিলন, ডাক পিয়ন  প্রভৃতি। গাফ্ফার খান পরিচালিত ‘দিওয়ানা’ তার অভিনীত শেষ ছবি।

h1

হাসমতের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। হাবা হাসমত হিসেবে তিনি ছিলেন অধিক জনপ্রিয়। হাসমতের উল্লেখযোগ্য ছবি-নতুন বউ (১৯৮৩) আলোর মিছিল (১৯৭৪) – আলোর নাচের শিক্ষক রংবাজ (১৯৭৩) অবুঝ মন (১৯৭২) নীল আকাশের নীচে (১৯৬৯)

Saifuddin

সাইফুদ্দিন আহমেদ যিনি শুধু সাইফুদ্দিন নামে অধিক পরিচিত একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন। তিনি মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৫৬ সালে আব্দুল জব্বার খান নির্মিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বাংলা ও সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটে।  তিনি ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত ছিলেন। এসময় তিনি প্রায় চারশত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬), চাওয়া পাওয়া (১৯৬৭), আঁকাবাঁকা (১৯৭০), ময়নামতি (১৯৬৯), এতটুকু আশা (১৯৬৮), নীল আকাশের নীচে (১৯৬৯), জল ছবি (১৯৭১), মধু মিলন (১৯৭০), বধু বিদায় (১৯৭৮), আরাধনা (১৯৭৯), সুন্দরী (১৯৭৯), শহর থেকে দূরে (১৯৭৯), শেষ উত্তর (১৯৮০), বড় ভাল লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), দহন (১৯৮৫) ও বেদের মেয়ে জোসনা (১৯৮৯) উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৯ সালে সাইফুদ্দিন সুন্দরী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ অভিনেতা মারা যান।

R1

রবিউল বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের সফল কৌতুক অভিনেতা রবিউল। শতাধিক ছবিতে তার হাস্যরস সৃষ্টির প্রতিভা আর্কাইভে পাওয়া যায়। তার অন্যতম গুণ ছিল তিনি কুলোর মতো কান দুটোকে তালে তালে নাচাতে পারতেন। উল্লেখযোগ্য ছবি-ছুটির ঘন্টা(1980), গুণ্ডা(1976) আলোর মিছিল(1974) চৌধুরি বাড়ি(1972) নীল আকাশের নিচে(1969) আকাশ আর মাটি(1959)

1-1_80697

আনিস বাংলাদেশের মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। কৌতুক চরিত্রে বেশী অভিনয় করেন বলে তিনি কৌতুক অভিনেতা আনিস হিসেবে বেশী পরিচিত। তিনি টিভি, মঞ্চ এবং চলচ্চিত্র সবক্ষেত্রেই অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। কৌতুক অভিনেতা আনিস চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা নয়, চিত্রসম্পাদক হিসেবে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ভ্রাতৃদ্বয় এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে সহকারী সম্পাদক ও পরিচালক ছিলেন তিনি। এ দুই নির্মাতার মাধ্যমেই একসময় অভিনয়ে নিয়মিত হন আনিস। ১৯৬০ সালে বিষকন্যা ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এইতো জীবন’। তারপর থেকে তিনি অভিনয় করেই গেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি অভিনয় করছেন। নবাব সিরাজদ্দৌলা নাটকে গোলাম হোসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মঞ্চে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাবা মরহুম আমিনুর রহমান চা বাগানের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ বল্লবপুরে। ১৯৬৫ সালে খালাতো বোন কুলসুম আরা বেগমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আনিস। উনপঞ্চাশ বছর একসঙ্গে সংসার করেছেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এতটুকু ছেদ পড়েনি তাদের ভালোবাসায়। আনিসের বড় মেয়ে ফারহা দীবা থাকেন আমেরিকাতে। তার স্বামী তারেক হোসেন সেদেশে ব্যবসা করেন। ছোট মেয়ে ফাতেমা রহমান রিমি কুমিল্লায় আছেন। তার স্বামী আলাউদ্দীন সেখানে ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত। রিমি ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন। আগে ফরিদপুরের একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

অদৃশ্য শত্রু (২০১৪) সীমারেখা (২০১৪) স্বামী ভাগ্য (২০১২) কোটি টাকার প্রেম (২০১১) যেমন জামাই তেমন বউ (২০১০) এবাদত (২০০৯) মৃত্যুর ফাঁদে (২০০৯) কোটি টাকার ফকির (২০০৮) বড় ভাই জিন্দাবাদ (২০০৮) সমাধি (২০০৮) আমি বাঁচতে চাই (২০০৭) কোটি টাকার কাবিন (২০০৬) মমতাজ (২০০৫) চেয়ারম্যান (২০০১) লাঠি (১৯৯৯) কুলি (১৯৯৭) অজান্তে (১৯৯৬) চাকর (১৯৯২) বড় বাড়ীর মেয়ে (১৯৮২) মহানগর (১৯৮১) গুন্ডা (১৯৭৬)
15203147_1147747751939898_8472315578812595453_n

বিশিষ্ট নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, লেখক, অভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা আশীষ কুমার লোহ ১৯৩৭ সালের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলায় এক সম্ভ্রান্ত সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে লেখাপড়া শেষে তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে ভর্তি হন। জেলা স্কুল থেকে ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে ছাত্র থাকাকালীন তিনি কৌতুক নাটকে অভিনয়সহ অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কলেজের বার্ষিক নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিনয় ও কৌতুক এবং স্থানীয় টাউন হল মঞ্চে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নাটকে অংশগ্রহণ এবং কৌতুক অভিনয় দেখাবার জন্য তাঁর ডাক পড়তো। আনন্দমোহন কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে আইএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় ও কৌতুক প্রদর্শন করে ঢাকায়ও প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন। এই সময় তিনি বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভূক্ত অভিনয় শিল্পী হয়ে যান। শিল্পী হিসাবে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে বিভিন্ন নাটকে অংশগ্রহণ করা বাদেও তিনি বেতার ও টেলিভিশনের জন্য নাটক লেখা শুরু করেন। কালক্রমে আশীষ কুমার লোহ একজন খ্যাতনামা নাট্যকার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং নাট্যাভিনয়ে নিজ যোগ্যতার পরিচয় দেন। ষাট দশকে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন ঢাকা কেন্দ্রের প্রথম ধারাবাহিক কৌতুক নাটক ‘হীরা-চুনি-পান্না’ নাটকে হীরার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ষাট দশকেই তিনি চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় করা শুরু করেন। সারাজীবনে তিনি প্রায় চল্লিশটারও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন। প্রতিটা সিনেমায় আশীষ কুমার লোহ অনবদ্য অভিনয় করেন। প্রতিটি চরিত্রকে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন। এ জন্য তাঁর অভিনীত প্রতিটি চরিত্র প্রাণবন্ত হয়ে উঠতো। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রথিতযশা শিল্পী ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো হারানো দিন (তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র) কারওয়্যাঁ, বেগানা, ও কায়সে কঁহু (ঊর্দু সিনেমা) ভাওয়াল সন্ন্যাসী, নদী ও নারী, সুতরাং, অঙ্গার, অচেনা অতিথি, রূপালী সৈকতে, মৌচাক, সখী তুমি কার, কার বউ, আপন দুলাল, নয়ন তারা, অনেক দিন আগে, দুই পর্ব, বাদল, রাজার রাজা, জন্ম থেকে জ্বলছি, পাগলা রাজা, সোহাগ মিলন, আলী বাবা ৪০ চোর, মধুমালতী, শাস্তি, ঘরে বাইরে, পরিণীতা, ইত্যাদি। ছোট গল্পকার হিসাবেও তিনি সুনাম অর্জন করেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। কৌতুক অভিনেতা হিসাবে তার স্থান অতি উচ্চে। অভিনেতা আশীষ কুমার লোহ ১৯৯৪ সালের ৩ নভেম্বর মাত্র ৫৭ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

DSC_7520-5

টেলিসামাদ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা। জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারী, মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায়। ‘১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রে আগমন হয়। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টেলিসামাদ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা তার বড়ভাই বিখ্যাত চারুশিল্পী আব্দুল হাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রে পা রাখা। তিনি দর্শকের কাছে পরিচিতি পান আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ ছবির মাধ্যমে। চার দশকে ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।টেলিসামাদ এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রে রবিউল, খান জয়নুল, আশীষ কুমার লৌহ, আনিস, লালু, হাসমতের মতো গুণী কৌতুক অভিনেতাদের সাথে অভিনয় করেছেন]

টেলি সামাদ নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন এই অভিনেতা। তবে তিনি দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ নামটা দিয়েছিলেন। সেই থেকেই তাকে সবাই টেলিসামাদ নামেই চেনে।

৭০ দশক থেকে তাকে পর্দায় দেখেছেন দর্শকরা। এ যাবৎ অসংখ্য চলচ্চিত্র-নাটকে নানা ধরনের চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে। নিজের অভিনয় শৈলি দিয়ে দর্শকদের বিনোদন ও হাসিতে সারাক্ষন মাতিয়ে রাখতেন টেলিসামাদ। একসময় কমেডিয়ান বললেই চলে আসত তাঁর নাম। সমানতালে অভিনয় করেছেন সিনেমায়, টেলিভিশনে। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। সবাইকে হাসিয়েছেন যিনি, জীবন সায়াহ্নে এসে অভাব- জরা- ক্লান্তি আর একাকীত্ব মিলিয়ে দারুন অবসাদগ্রস্থ সেই কৌতুক সম্রাটের মুখেই নিভে গেছে হাঁসি। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’। বর্তমানে এই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন। জিরো ডিগ্রী (২০১৫),কুমারী মা (২০১৩), সাথী হারা নাগিন (২০১১), মায়ের চোখ (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), রিকসাওয়ালার ছেলে (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), কাজের মানুষ (২০০৯), মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি (২০০৯), কে আমি (২০০৯) – হাশেম, কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩), মিস লোলিতা (১৯৮৫), নতুন বউ (১৯৮৩), মাটির ঘর (১৯৭৯), নাগরদোলা (১৯৭৯), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮) – বঙ্গা, অশিক্ষিত (১৯৭৮) – কালা, জয় পরাজয় (১৯৭৬), গুন্ডা (১৯৭৬) – জব্বার, সুজন সখী (১৯৭৫) – বগা, চাষীর মেয়ে (১৯৭৫), রঙিন রূপবান, ভাত দে

D1

দিলদার ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র কৌতুক অভিনেতা। তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেন এমন হয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে।[১] তিনি ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তুমি শুধু আমারচলচ্চিত্রের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।  তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র আব্দুল্লাহ (১৯৯৮), তুমি কি সেই (২০০৯), শান্ত কেন মাস্তান (১৯৯৮), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), স্বপ্নের নায়ক (১৯৯৭), শুধু তুমি (১৯৯৭), বিচার হবে (১৯৯৬), প্রিয়জন (১৯৯৬), এই ঘর এই সংসার (১৯৯৬), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬), দূর্জয় (১৯৯৬), অজান্তে (১৯৯৬), সুন্দর আলী জীবন সংসার (১৯৯৬), চাওয়া থেকে পাওয়া (১৯৯৬), কন্যাদান (১৯৯৫), অন্তরে অন্তরে (১৯৯৪), বিক্ষোভ (১৯৯৪), বেদের মেয়ে জোসনা (১৯৮৯), বীর পুরুষ (১৯৮৮), নাচনেওয়ালী, খাইরুল সুন্দরী, গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০)

download

আফজাল শরীফ মঞ্চ থেকে পরবর্তীতে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে আসেন। ১৯৮৪/৮৫ সালে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। ঢাকার আরামবাগে ট্রুপ থিয়েটারে প্রথম অভিনয় শুরু করেন আফজাল শরীফ। মঞ্চে তিনি ক্ষতবিক্ষত, জমিদার দর্পন, সাত ঘাটের কানাকড়ি, রাক্ষুসী এবং মহাপুরুষ ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৮৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত ও পরিচালিত টিভি ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। বেইলী রোডে প্রথম হুমায়ূন আহমেদের সাথে আফজাল শরীফের সাক্ষাত হয় এবং বহুব্রীহি, অয়োময় প্রভৃতি ধারাবাহিক এবং পরবর্তীতে আরও খন্ড নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষ পরিচালিত পদ্মা নদীর মাঝি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন আফজাল শরীফের। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করছেন তিনি। কমেডি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র-অহংকার (২০১৭) রানা পাগলা দ্য মেন্টাল (২০১৬) মন জানেনা মনের ঠিকানা (২০১৬) এক জবানের জমিদার হেরে গেলেন এইবার (২০১৬) আরো ভালোবাসবো তোমায় (২০১৫) ব্ল্যাক মানি (২০১৫) লাভার নাম্বার ওয়ান (২০১৫) রাজা বাবু (২০১৫) আই ডোন্ট কেয়ার (২০১৪) তুই শুধু আমার (২০১৪) লোভে পাপ পাপে মৃত্যু (২০১৪) শিরি-ফরহাদ (২০১৩) জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩) ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম (২০১৩) – শিওর আলী নিষ্পাপ মুন্না (২০১৩) প্রেম প্রেম পাগলামী (২০১৩) জীবন নদীর তীরে (২০১৩) ১০০% লাভ (বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না) (২০১২) শিউলীমণি (২০১২) সে আমার মন কেড়েছে (২০১২) জিদ্দি বউ (২০১২) গার্মেন্টস কন্যা (২০১১) ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০) পরাণ যায় জ্বলিয়া রে (২০১০) বাজাও বিয়ের বাজনা (২০১০) জমিদার (২০১০) যেমন জামাই তেমন বউ (২০১০) প্রেমে পড়েছি (২০১০) আইনের হাতে গ্রেফতার (২০০৯) ও সাথী রে (২০০৯) ভণ্ড নায়ক (২০০৯) রাজধানীর রাজা (২০০৮) তোমাকে বউ বানাবো (২০০৮) বধূবরণ (২০০৮) আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮) আমার জান আমার প্রাণ (২০০৮) বড় ভাই জিন্দাবাদ (২০০৮) যদি বউ সাজো গো (২০০৮) কাবিননামা (২০০৭) ডাক্তার বাড়ী (২০০৭) শত্রু শত্রু খেলা (২০০৭) মা আমার স্বর্গ (২০০৭) দাদীমা (২০০৬) জবাব দে (২০০৬) ভন্ড ওঝা (২০০৬) কোটি টাকার কাবিন (২০০৬) মমতাজ (২০০৫) জীবনের গ্যারান্টি নাই (২০০৪) ভণ্ড নেতা (২০০৪) ভাইয়ের শত্রু ভাই (২০০৪) বস্তির রানী সুরিয়া (২০০৪) বিগ বস (২০০৩) কঠিন সীমার (২০০৩) টপ সম্রাট (২০০৩) ওদের ধর (২০০২) মাস্তানের উপর মাস্তান (২০০২) ভাইয়া (২০০২) ইতিহাস (২০০২) ঠেকাও মাস্তান (২০০১) শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ (২০০১) – তোতা ঝড় (২০০০) অনন্ত ভালবাসা (১৯৯৯) কে আমার বাবা (১৯৯৯) পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩)

 B1

জনপ্রিয় কমেডি অভিনয়শিল্পী ব্ল্যাক আনোয়ার। তিনি ঢাকার সুত্রাপুরে ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সোনা মিয়াও ছিলেন একজন অভিনয়শিল্পী। তিনি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন ও মঞ্চে অভিনয় করেন। ‘সুয়ো রানী দুয়ো রানী’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘সাক্ষী’, ‘সৎভাই’সহ জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। সর্বশেষ তিনি ‘কাবলিওয়ালা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। হাসির এ মানুষটি সবাইকে কাঁদিয়ে ২০০৭ সালে ১০ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান।

 anwarhasan_57748357551b40c6196a5c6.50553006_xlarge

আশির দশকে প্রয়াত ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের দুই তুমুল জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতার একজন ‘কইনচাইন দেহি‘ খ্যাত এ এফএম আব্দুল আলী লালু মারা গেছেন কয়েক বছর আগে।

আব্দুল আলী লালু আর সিরাজুল হক মন্টু দুজনই ময়মনসিংহের সন্তান। প্রয়াত ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তারা পান তুমুল জনপ্রিয়তা।  আব্দুল আলী লালু জীবনের শেষ বয়সে প্রচন্ড অর্থাভাবে দুঃস্থ অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে ২০০৮ সালে ময়মনসিংহের নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.