মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
চাঁদপুর । ৩১ আগস্ট ২০১৮ । ১৬ ভাদ্র ১৪২৫
চাঁদপুর সদরের ৫নং রামপুরের একটি গ্রামে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে দৃশ্যমান হলো প্রাচীনতম একটি মসজিদ। জঙ্গল পরিষ্কার করার পর মসজিদটি এখন দৃশ্যমান হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ি এলাকায় মসজিদটির অবস্থান। বুধবার বিকেলে মসজিদটির দৃশ্যমান হয়। বৃহস্পতিবার ও শ্রমিকরা সেখানে জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করে মসজিদটি দৃশ্যমান করেছেন । এলাকাবাসীর ধারণা মসজিদটি সুলতানি আমলে তৈরি।
জানা যায়, ‘জঙ্গলের ভেতর একটি মসজিদ পাওয়া গেছে এ তথ্য পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সন্ধান মেলে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। দেয়াল ঘেঁষে চারপাশে চারটি ছোট মিনার রয়েছে, বাইরের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং এর প্রস্থ ১৫ ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য আট ফুট ১০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৭ ফুট তিন ইঞ্চি। মসজিদটির একটি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোঁপ রয়েছে। দেয়ালের দূরত্ব প্রায় ৩৩ ইঞ্চি। পোড়া ইট, বালি, চুনা এবং শুরকি দ্বারা ভবনটি নির্মিত।
জানা যায়, ‘এলাকার প্রয়াত মুরব্বিরা জানিয়েছিলেন সেখানে একটি পুরনো স্থাপনা আছে। কিন্তু কেউই সেখানে যেতেন না। কারণ, মসজিদটির উপরে একটি বিশাল জির গাছ ও তার শেকড়, বাঁশঝাড়, অন্যান্য বনলতা যা ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছিল। পরে আজিজ তালুকদার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ১০-১২ বছর আগে জির গাছটি কেটে সেটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা করতে পারেননি । কারণ, এটি এতোই ভেতরে ছিল যে সম্পূর্ণ মসজিদটিকে দৃশ্যমান করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি অবশ্য স্থানীয় লোকজনকে স্থাপনাটি সম্পর্কে জানান। কিন্তু ভয়ে কেউ মসজিদটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেননি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি বিষয়টি জানার পর এটিকে দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০-২৫ বছর আগে এ মসজিদের পাঁচ কিলোমিটার দূরে উলিপুর গ্রামে একই রকম দুটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। নতুন আবিস্কৃত মসজিদের গায়ে কোনো লেখা না পাওয়া গেলেও ওই দুটি মসজিদের শিলালিপিতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলের কথা উল্লেখ ছিল। নতুন দৃশ্যমান মসজিদটি তিনশ বছর আগের বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের পরিচালক রাখি রায় ওই গ্রামেরই সন্তান। তিনি জানান, জঙ্গল পরিষ্কারের আগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে মসজিদ এলাকায় নিয়ে যান। মসজিদটি সুলতানি আমলের বলে ধারণা করছেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবেদন করলে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান রাখি রায়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম