মাস্টারি বিডি ডটকম
আন্তর্জাতিক । ০৫ অক্টোবর ২০১৭ । ২০ আশ্বিন ১৪২৪
চলতি বছর (২০১৭ সাল)’র সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের নন্দিত ঔপন্যাসিক কাজুয়ো ইশিগুরো।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে নোবেল পুরস্কার মনোনয়ন কর্তৃপক্ষ রয়্যাল সুইডিশ একাডেমির সংবাদ সম্মেলনে সাহিত্যে বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হয়, ‘তীব্র আবেগঘন উপন্যাসগুলোতে মোহময় চৈতন্যের আড়ালে বিরাজমান অতল জগতের সঙ্গে বাস্তব পৃথিবীর যোগসূত্রকে উন্মোচন করায়’ তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
মূলত ঔপন্যাসিক হলেও ছোট গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও কলাম লেখক হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে ইশিগুরোর। তিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি লাভ করেন তার ‘দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে’ ও ‘নেভার লেট মি গো’ উপন্যাসের জন্য। এ দু’টি উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়, যা দর্শক-সমালোচক সবশ্রেণির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পায়। নোবেল কমিটিও ইশিগুরোর এ দু’টি উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করে।
ইশিগুরোর লেখার চরিত্ররা অতীতের সমস্যা-সংঘাতেই থেকে যায়, অমীমাংসিত থেকে যায় তাদের জীবনের ঘটনাগুলো। বিষন্নতায় সমাপ্তি ঘটে কাহিনীর। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমির ভাষায়, ‘কাহিনী যা-ই হোক, লেখকের ভাষা থাকে নির্বিকার।’

সুইডিশ কমিটির পক্ষ থেকে এই ব্রিটিশ লেখকের ব্যাপক প্রশংসা করে বলা হয় হয়- এই লেখক নিজের আদর্শ ঠিক রেখে, আবেগপ্রবণ শক্তি দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ঘটিয়েছেন’।
৬২ বছর বয়সী লেখক কাজুয়ো ইশিগুরো বই লিখেছেন মোটে ৮টি। বইগুলো ৪০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইংরেজি সাহিত্য জগতের অন্যতম নন্দিত লেখক ইশিগুরো বলেন, ‘এই পুরস্কার অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি।’
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে আগে কিছু শোনেননি জানিয়ে এই সাহিত্যিক বলেন, ‘প্রথমে শোনার পর গুজব কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। এটা বিশাল সম্মান, কারণ এখন মনে হচ্ছে, মহান সাহিত্যিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারছি।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জাপানের নাগাসাকিতে যুদ্ধের প্রায় এক দশক পর ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইশিগুরো। তার বাবা সমুদ্রবিজ্ঞানী হিসেবে ইংল্যান্ডে চাকরি পেলে পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে সেখানে চলে যান তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব কেন্টে ইংরেজি ও দর্শনে পড়াশোনার পর তিনি ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া থেকে সৃজনশীল লেখালেখির ওপর স্নাতকোত্তর করেন। এখানে তিনি শিক্ষক হিসেবে পান প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক ম্যালকম ব্র্যাডবুরি ও ঔপন্যাসিক অ্যাঙ্গেলা কার্টারকে।
‘এ প্যাল ভিউ অব হিলস’ শিরোনামে লেখা তার থিসিসই প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিতি পায়।

এর আগে গতকাল ৪ অক্টোবর (বুধবার) রসায়নে নোবেল পুরস্কার জয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন- সুইজারল্যান্ডের জ্যাক দোবোশে, যুক্তরাষ্ট্রের জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক এবং ব্রিটেনের রিচার্ড হেন্ডারসন।
ক্রারাইও-ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপি নিয়ে গবেষণা করে এবার রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেলেন এই তিন বিজ্ঞানী।
গত ৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) পদার্থে নোবেল পুরস্কার জয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়।

রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কারের জন্য রাইনার ভাইস, কিপ এস থর্ন ও ব্যারি বারিশের নাম ঘোষণা করে। প্রথম জন জার্মান। বাকি দুই বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম