মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
কবিতা | ঢাকা | ১১ আগস্ট ২০১৯ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৬

বালিকা জানে না
বালিকা জানে না, কী দিয়ে কী হয়
ছোট্ট মেয়েটার তা জানবার কথা নয়
তখনও সে শিখেছে শুধু, ঘুঙুর বাজাতে
খুব বেশি হলে পারে মায়ের লিপিস্টিকে
কঁচি ঠোঁটদুটি আঁকাবাঁকা করে সাজাতে
বালিকা জানে না, এর বেশি কিছু
জানে, একদিন যে ডেকেছিলো দেবশিশু
সেই তার নিষ্পাপ দেহ, করেছে ছিন্নভিন্ন
যে মানুষ ছিলো বাবা, ছিলো তার ভাই
সেই আজ বড় পশু, সবচেয়ে ঘৃণ্য!
এই বার্তা রটে গেছে দীর্ঘ বাতাসে
ইথারে ইথারে সকরুণ সংবাদ ভাসে
ভীষণ ভয়ার্ত গোলাপ, চুপচাপ কুঁড়ি
হঠাৎ ভেঙে চুরমার-লাল নীল চুড়ি
পাখিরা নির্বাক সবুজ পাতার ফাঁকে
আজ যেটুকু বৃষ্টি হলো
সে তো ঠিক এই কান্নার, খবর রাখে
পুতুলের ঘর ভেঙেছে যে ধর্ষক
তার জন্য ঘৃণার পাত্র ভরা হোক
ছোট্ট বোনটা পেলো না রেহাই
এ লজ্জা কীভাবে কোথা্য় লুকাই!
পুতুলের ঘর ভেঙেছে ধর্ষক
সভ্যতার জন্য এ খবর ভয়ানক
মানবতার জন্য এ খবর ভয়ানক

যে গল্পের পটভূমি তুমি আমি
এমন বৃষ্টির দিন
ভালো তো লাগে না কিছু তুমিহীন
এসো ভিজি একসাথে
বৃষ্টি মাখি রিম ঝিম ঝিম এই রাতে
জল দিয়ে লিখে রাখি ভুলেথাকা ঋণ
এমন বৃষ্টির দিন
ভালো তো লাগে না আর তুমিহীন
যে গল্পের পটভূমি তুমি আমি
শুধু তুমি আমি
এসো তার বুকে লিখে রাখি
বৃষ্টির পাগলামি
বৃষ্টি যার বন্ধু সে তো অমলিন
এমন বৃষ্টির দিন
ভালো তো লাগে না কিছু তুমিহীন
আজ আমি বৃষ্টি তুমি বুনো ঝড়
বৃষ্টি ছাড়া বিরহের নেই অবসর
যে দহনে পুড়ে যাই তুমি আমি
শুধু তুমি আমি
তার নামে দু ফাটা জল লিখে
হবো আজ দামি
বৃষ্টি মেখে এসো দূর করি দুর্দিন
এমন বৃষ্টির দিন
ভালো তো লাগে না কিছু তুমিহীন

আমিও বন্ধু তোমার
কাল দেখেছি তার কুঁড়ি
দেখলেই বোঝা যায়
সে আছে ফোটার অপেক্ষায়
মন বলছে, আজ সে ফুটেছে
পৃথিবীর আলোয়, বাতাসে
তার পাঁপড়ি মেলে দিয়েছে
ও ফুল ও ফুল
ভোর হয়ে এলো
ঘুম ভেঙে গেছে
ও ফুল ও ফুল
তোমার কাছে যাচ্ছি
মিষ্টি একটা গন্ধ পাচ্ছি
পাখিগুলো ডাকছে
অলস পাখনা মেলে
এ ডালে ও ডালে
নতুন দিনের আলো মাখছে
ও পাখি ও পাখি
সঙ্গে যাবে নাকি
এসো ফুলের গন্ধ মাখি
ও ফুল ও ফুল
তোমাকে দুচোখ ভরে দেখছি
আর মুগ্ধতায় ভেসে যাচ্ছি
ওই তো উড়ে এলো
রঙিন ডানা মেলে
একঝাঁক প্রজাপতি
তোমার কানে কানে
কি যেনো বলে গেলো
ও ফুল ও ফুল
আমিও বন্ধু তোমার
আমারও কিছু কথা আছে
যদি বন্ধু ভাবো
তবে বলে দিতে পারি
আমার কোনো ভোর নেই
আমি তোমার ভোরে জাগি
আমার কোনো প্রেমিকা নেই
আমি তোমার প্রেমে পড়ি
ও ফুল ও ফুল
আবাব আসবো কাল
নতুন দিনের আলো মেখে
আবার দাঁড়াবো এসে
তোমার হাসিতে জেগে থাকা
পাপড়ির রঙে ভরা
নতুন সকাল!

অমীমাংসিত তুমি
বেঁচে আছি, কথা বলি, হাসতে পারি
তাই কী ভালোবেসে ডাকো
মনের কর্নার প্লট আর যেনো কেউ-
দখল না নিতে পারে
তাই কী এতোটা মনে রাখো!
কিছুই দেবো না, কিছুই পাবে না
বরং দিতে হবে অর্ধেক রক্তচাপ
শিশুতোষ হার্টবিট, অর্ধেক দৃষ্টি,
ধরো জল না পেয়ে ফসল মরে গেলো
বিগত শস্যের পুরোটা দিতে হবে আমাকে
তখনও কী ভাগ হবে তোমার বৃষ্টি!
তোমার তৃষ্ণা, আর আমার তৃষ্ণারও বেশি
আমার চাই তোমার রক্ত-মাংসের তিনভাগ
তুমি কী দেহ থেকে খুলে দেবে
সবচেয়ে লোভনীয় মাংসপেশি!
আমার চোখ আছে, দৃষ্টিও ছয় বাই ছয়
কাছে দূরে ভেতরে বাইরে সমান দেখাদেখি
তখনও যদি চাই চোখের ভাগ
তার সাথে যদি চাই পাঁচ স্তম্ভের নেকি
আমি যদি হই তোমার শতভাগ ক্ষতি
তুমি কী কপাল থেকে খুলে দেবে
সেজদার প্রণতি!!
তোমার দিকে যাই, তোমার হতে চাই
যদি কখনও মনে হয় এসব নিছক পৌরনীতি
রাজ্য চালাতে যেমন নির্মম হতে হয়
যদি মন চালাতে হয়ে উঠি নির্দয়
তখনও কী তুমি মধুর কণ্ঠে বাজাবে গীতি!
বেঁচে আছি, বলতে পারি
বেঁচে আছি, দেখা হয়, স্বপ্ন দেখাতে পারি
তাই কী চক্ষু না বুঝে, অন্ধ সাজো
এতোটা সহজে নিজের ভাবো
হৃদয়ের ঘরবাড়ি!!
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম