মাস্টারি বিডি ডটকম
ঠাকুরগাঁও । ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ । ০৭ পৌষ ১৪২৩
শীতের আগমনে প্রকৃতি সেজে উঠেছে নতুন আমেজে। প্রকৃতির এ রূপটাকে বাড়িয়ে দিতে প্রতি বছর এই শীতে আসে অতিথি পাখিরা। এসে আমাদের মনকে আরো রাঙিয়ে তোলে নতুন ছন্দে। শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এবারও ঠাকুরগাঁও রানিশংকৈল উপজেলার রামরাই দিঘিতে ঝাঁকে ঝাঁকে এসেছে অতিথি পাখি । হাজার হাজার পাখির আগমনে পুরো দিঘি পরিণত হয়েছে পাখির মেলায় ।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে রামরাই দিঘির পাড়ে লিচু গাছে আশ্রয় নেয় অতিথি পাখিরা। ভোর হলেই পুনরায় পাখিরা খাবারের সন্ধানে রামরাই দীঘিতে আসে, সাঁতার দেয়। আর এসব পাখিদের মিলনমেলা দেখতে প্রতিদিন অনেক দূর-দূরান্ত থেকে রামরাই দিঘির পাড়ে আসছেন পাখিপ্রেমীরা।

প্রতি বছর শীতের শুরুতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের এই সবুজ-সুন্দর দেশে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন রং ও বাহারি অতিথি পাখি। প্রচণ্ড শীতের দেশ সুদূর সাইবেরিয়া থেকে। পাখিরা সেখানকার শীতের প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে অভয়াশ্রম হিসেবে বেছে নেয় আমাদের এই বাংলাদেশকে। এদেশের নদ-নদী, হাওর-বাওড় এরা যেন খুব ভালোবাসে। এ জায়গাগুলো যেন সুদীর্ঘকাল ধরে তাদের পরিচিত ।
রামরাই দিঘি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, সারাদিন অনেক মানুষ আসে এসব অতিথি পাখি দেখার জন্য। এদের কলকাকুলিতে মূখর হয়ে উঠে রামরাই দীঘি এলাকা। আমরা এলাকাবাসী সজাগ আছি কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পাখিপ্রেমী রেজাউল হাফিজ রাহী জানান, আমাদের এখানে যে অতিথি পাখি এসেছে তার নাম ছোট সরালি। অতিথি পাখিরা আমাদের দেশে অতিথি হয়ে আসে। অতিথি পাখিরা যাতে আমাদের এখানে নির্ভয়ে থাকতে পারে তার জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অতিথি পাখির আগমনে এ এলাকার যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, তেমনি এরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগিতা করে। তাই অতিথি পাখি শিকারকে আমরা সবাই না বলি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এই ছোট সরালি জাতের অতিথি পাখি আমাদের দেশে প্রতি শীতকালেই আসে। এরা আবার এখানে এসে ডিমও দেয়। এদেরকে শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সকলকে অতিথি পাখি শিকার না করার আহ্বান জানান তিনি।-বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম