মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
প্রতিবেদন । ঢাকা । ১১ মে ২০১৯ । ২৮ বৈশাখ ১৪২৬
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে বার্ষিক রাজস্ব আয় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।
তিনি জানান, শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পর্যটক সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পরিচালক বলেন, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৬ লাখ টাকা এবং চলতি অর্থবছরে এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফরকালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ পরিদর্শন করেন। সেই সময় তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভারত সরকার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকা অনুদান দেয়। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর কুঠিবাড়ি চত্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম সংবলিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

আফরোজা খান মিতা বলেন, ২০১৭ সালের ৯ মার্চ ‘শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি কুষ্টিয়ার সম্প্রসারিত উন্নয়ন কার্যক্রম’ এর অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-র তৎকালীন সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করেছেন স্থাপতি রবিউল হোসাইন। এর মাঠ পর্যায়ে কাজ সম্পাদন করছে গণপূর্ত অধিদফতর। প্রত্নত্ত্ব অধিদফতরের সার্বিক সহযোগিতায় প্রকল্পের কাজ এ বছরেই শেষ হবে।
আফরোজা খান মিতা বলেন, শিলাইদহের সব উন্নয়ন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি রবীন্দ্রভক্ত ও শিল্পীদের সুরেও মুখরিত হবে এ প্রাঙ্গণ। অন্যদিকে সমৃদ্ধ রিসার্স সেন্টার গবেষকদের কাজে সহায়ক হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ভবনটি জাদুঘর হিসেবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জাদুঘরের নীচতলা ও দোতলায় ১৬টি কক্ষেই তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।
তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশী দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫ টাকা এবং সার্কভুক্ত বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।
এছাড়াও বিশেষ বিশেষ দিন এবং সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্বস্থল শিশু-কিশোর, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিনা মূল্যে পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হয়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম
