Home / উন্নয়ন / যশোর এলজিইডি’র অধীনে ২ হাজার কোটি টাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
lged+devolopment+jesore+mbd

যশোর এলজিইডি’র অধীনে ২ হাজার কোটি টাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন

মাস্টারি বিডি ডটকম
যশোর । ৩০ আগস্ট ২০১৭ । ১৫ ভাদ্র ১৪২৪

বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে যশোর এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো, নগর ও ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। টেকসই ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা ও উন্নত জীবন ব্যবস্থা তথা মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

যশোর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকী জানান, পল্লী সড়ক উন্নয়ন বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এলজিইডি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ জেলার ৮ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সংবাদ বাসস-এর।

তিনি (নির্বাহী প্রকৌশলী) আরো বলেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এলজিইডি’র অধীনে যশোর জেলায় মোট ৮শ’৩৮ কিলোমিটার পল্লী সড়ক পাকাকরণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আরও ৪শ’৩৮ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬শ’৭১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পুলেরহাট-রাজগঞ্জ-ত্রিমোহিনী-সাগরদাঁড়ী-কুমিরা সড়ক, ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কাশিপুর-মৌতা বাসষ্ট্যান্ড থেকে বেনেয়ালী বাসষ্ট্যান্ড ভায়া শিমুলিয়া সেন্টলুইস সড়ক, ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দত্তরাস্তা-নারিকেলবাড়িয়া সড়ক ও ১৩.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ শহীদ সিরাজউদ্দীন হোসেন কলেজ থেকে ইছালী ইউনিয়ন পরিষদ ভায়া গাওভরা সড়ক।

টেকসই গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত এসব সড়ক সারা বছরের জন্য চলাচলের উপযোগী করে রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছে যশোর এলজিইডি। এর ফলে চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সকল কর্মকান্ড। কমে যাচ্ছে যানবাহন পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সাশ্রয় হচ্ছে অর্থের। মানুষ নিরাপদে পথ চলার আনন্দ পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত যশোর জেলায় ১ হাজার ২ শ’৩০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১ হাজার ৩০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ শ’ ২১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ১৩ কিলোমিটার ঝিকরগাছা-বাঁকড়া সড়ক, ৯ কিলোমিটার মনিরামপুর-বাগআঁচড়া সড়ক, ৭.৮ কিলোমিটার নেহালপুর-কাটাখালী-কেশবপুর সড়ক, ৬ কিলোমিটার চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়ক, ৪.৭০ কিলোমিটার বসুন্দিয়া মোড় থেকে জিসি সড়ক, ১৩.২০ কিলোমিটার ঝিকরগাছা-চৌগাছা সড়ক, ৪.৪ কিলোমিটার তালতলা থেকে পায়রা জিসি সড়ক, ৭.৪০ কিলোমিটার নওয়াপাড়া নূরবাগ-সুন্দলী সড়ক, ৯ কিলোমিটার শার্শা-গোড়পাড়া সড়ক, ৮.২০ কিলোমিটার শার্শা-জামতলা সড়ক, ৭.৮০ কিলোমিটার বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়ক, ৭.৫০ কিলোমিটার চুকনগর-কাটাখালী সড়ক ও ৮.৯০ কিলোমিটার মনোহরপুর-চিনেটোলা বাজার সড়ক।

lged+devolopment+jesore+mbd-3

এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন খান জানান, নদ-নদী ও খালের উপর ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে এলজিইডি জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচন করেছে। সৃষ্টি করছে অবাধ ও নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক নেটওয়ার্ক। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এ জেলায় মোট ১ হাজার ৬ শ’১০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে এলজিইডি। চলতি বছর আরও ১ হাজার ২ শ’ ৯০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্টের নির্মাণ কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ শ’ ৩৬ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এসব সেতুর মধ্যে রয়েছে ঝিকরগাছা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের উপর ১ শ’৫ মিটার ব্রিজ, মনিরামপুর খোর্দ্দঘাটে ১ শ’ ৬৮ মিটার ব্রিজ, সদর উপজেলায় ৫৪ মিটার ব্রিজ, ঝিকরগাছা উপজেলায় ১ শ’ ৩৫ মিটার ব্রিজ ও অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেটে ভৈরব নদীর উপর ৭০২.৫৫ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ। এ সব ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোরও উন্নয়ন করা হয়েছে। অন স্টপ সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এলজিইডি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া গ্রোথ সেন্টার, হাট-বাজার, ঘাট, জেটি উন্নয়ন ও মেরামতের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের চাকা গতিশীল করতে এ জেলায় মোট ২৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ৩টি হাট-বাজার ও ঘাট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। চলতি বছরে ৩টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ, ১টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ১৪টি বাজার উন্নয়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪.৯৭ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শার্শা, মনিরামপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, বিদ্যানন্দকাঠি, নাভারন, ঝাঁপা ও আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, গোড়পাড়া, বাঁকড়া, নাভারন, চিংড়া, খাজুরা, চিনেটোলা ও সলুয়া বাজার উন্নয়ন।
Shyama+proshad+ceo+lged+mbdএলজিইডির অধীনে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জেলা ও উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত একটি করে পাকা বাড়ি এবং জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জেলা-উপজেলায় পাঁচতলা ভিত্তির উপর ৭হাজার ৫শ’ বর্গ ফুটের তিনতলা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যাদুঘর কাম লাইব্রেরি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ও মার্কেটের সংস্থান থাকছে।এ জেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪৫টি পাকা বাড়ি এবং ৬টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫.৬৯ কোটি টাকা।

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে মানসম্মত ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ, বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ ও ছাত্র অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি। গত ৮ বছরে এ জেলার ৮ উপজেলায় ৯৩টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ৩ শ’৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ সম্প্রসারণ ও ৩টি উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন এবং যশোর পিটিআইতে ১টি দৃষ্টিনন্দন মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম নির্মাণ কাজ চলছে। এ সকল কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা।
খাদ্য স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য এলজিইডির ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষির পাশপাশি মৎস্য উৎপাদন, প্রাণি সম্পদ প্রসারের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত ৮ বছরে এই সেক্টরে যশোর জেলায় ৩টি স্লুইস গেট নির্মাণ ও ১.৬০ কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫ শ’ ৬৪ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩.৭৫ কোটি টাকা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার জন। গুরুত্বপূর্ণ উপ-প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে স্বরূপদাহ-ধুনারখাল, কাঠুরাকান্দি খাল ও খালঘাট-বসুন্দিয়া উপ-প্রকল্প।

বৃক্ষরোপণ করাসহ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির কাজেও এলজিইডি নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। গত ৮ বছরে যশোর জেলায় মোট ৩ হাজার ৮ শ’ ৩৬ কিলোমিটার সড়কে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ৪ হাজার ৫শ’ ৩৬ জন নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৬.৯৪ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে যশোর জেলা রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে এলজিইডি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.