
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ০৩ এপ্রিল ২০১৯ । ২০ চৈত্র ১৪২৫
কবি দ্বিজ কানাই রচিত “মহুয়া” পালার নাম ভূমিকায় যে নায়িকা বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে- মহুয়া ফুলের নামে তার নাম। অত্যন্ত বিয়োগান্তক এই কাব্য পালার চারটি পঙক্তি এরকম-
“পইড়া থাকুক বাপ মাও পইড়া থাকুক ঘর।
তোমারে লইয়া বন্ধু যাইবাম দেশান্তর।।
দুই আঁখি যে দিগে যায় যাইবাম সেইখানে।
আমার সঙ্গে চল বন্ধু যাইবাম গহীন বনে।।

মহুয়ার স্থানীয় নাম, মাধুকা। তবে মহুয়া নামেই বেশি পরিচিত।
বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে সারাগাছ ভরে থোকা থোকা অসংখ্য মহুয়া ফুল ফোটে। তবে গ্রীষ্মকালেও কিছু ফুল ফোটে। ফুলের পাপড়িগুলো স্থুল ও রসাল। প্রায় একই সঙ্গে তামাটে রঙের নতুন কচি পাতাগুলো গজাতে শুরু করে। এই নতুন পাতা আর ফুলের অপূর্ব শোভা নিয়ে মহুয়ার তখন শ্রেষ্ঠ সময়। ফুলের গন্ধ অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফুলের আকর্ষণে হরিণ ও ভালুকের সঙ্গে সাঁওতাল নর-নারীরাও গাছতলায় ভিড় জমায়। এই ফুলের পরিশ্রুত নির্যাস উত্তেজক এবং আদিবাসীদের প্রিয় পানীয়।

সমভূমিতে সচরাচর চোখে পড়ে না মহুয়া। কারণ গাছটির প্রিয়আবাস পাহাড়ি এলাকা। সেখান থেকেই বৃক্ষপ্রেমীদের মাধ্যমে চলে এসেছে সমতল অঞ্চলে। তাও খুব বেশি নয়, হাতেগোনা কয়েকটি। ঢাকায় রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশ কিছু গাছ দেখা যায়। তবে রমনা পার্কের একটি গাছ সবচেয়ে বেশি পুরনো। বয়স ১০০ বছরেরও বেশি। আমাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারার সঙ্গেও মহুয়া নামটি সুপরিচিত।

মহুয়া বেশ বড় ধরনের পত্রমোচি গাছ। কাণ্ড দীর্ঘ, মসৃণ ও ধূসর রঙের। এ গাছের উপরিভাগ অজস্র শাখা-প্রশাখায় ছড়ানো। প্রশাখান্তে ঘনবিন্যস্ত পত্রগুচ্ছ বেশ আকর্ষণীয়। শীতকাল মহুয়ার পাতা ঝরানোর দিন।

মহুয়া ফল অনেকটা বড় আকারের কুলের মতো। বীজ তেল, সাবান ও ঘি তৈরিতে কাজে লাগে। ফুল অনেকদিন শুকিয়ে রাখা সম্ভব। মিষ্টান্ন, পুডিং ও অন্যান্য খাদ্যেও ফুলের ব্যবহার করা যায়। মহুয়ার খৈলের ধোঁয়া পতঙ্গ-নাশক। কাঠ ভারী ও স্থায়ী।

মহুয়ার বৈজ্ঞানিক নাম : Madhuca indica.।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম