মাস্টারি বিডি ডটকম
আন্তর্জাতিক । ০৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ২০ পৌষ ১৪২৩
ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের আমাজন রাজ্যের রাজধানী মানাসের উপকণ্ঠের একটি কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় ৬০ জন নিহত হয়েছে। পালিয়েছে ১শ’ ৪৪ কয়েদি। বিবদমান দুটি দলের মধ্যে ভয়াবহ এ দাঙ্গা লাগে। এ সময় প্রতিপক্ষরা একে অপরের মাথা কেটে ফেলে।
রাজ্যের জন নিরাপত্তা মন্ত্রী সের্গিও ফন্টেস বলেন, রোববার বিকেলে এ দাঙ্গা লাগে এবং রাতভর তা চলে।
ঘটনাস্থল থেকে এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, রক্তমাখা ও পুড়ে যাওয়া লাশগুলো কারাগারের সামনে জড়ো করা হয়েছে ও ঠেলাগাড়িতে রাখা হয়েছে।
ফন্টেস বলেছেন, রাজ্যে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।
দাঙ্গার সময় অ্যানিসিও জোবিম পেনিটেনটিয়ারি কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি টানেল দিয়ে অসংখ্য কয়েদি পালিয়ে গেছে। তাদেরকে ধরতে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

ফন্টেসের দপ্তর জানায়, এ কারাগার থেকে ১শ’ ১২ কয়েদি পালিয়েছে। আর পার্শ্ববর্তী অ্যান্টোনিও ত্রিনাদে পেনাল ইনস্টিটিউট থেকে ৭২ জন পালায়। তবে ৪০ জনকে ফের পাকড়াও করা হয়েছে।
ফন্টেস বলেন, সোমবার সকালে পুলিশ কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। দাঙ্গার সময় জিম্মি করা ১২ কারারক্ষীকেও মুক্ত করেছে পুলিশ। তারা কারাগারের ভেতরে বীভৎস সব চিত্র দেখতে পায়।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত অনেকের মাথা বিচ্ছিন্ন ছিল এবং তাদের শরীরে ব্যাপক নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বীভৎস এসব ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় শক্তিশালী গোষ্ঠী ফ্যামিলি অফ দ্য নর্থ (এফডিএন) ব্রাজিলের অন্যতম বৃহত্তম গোষ্ঠী ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ডের (পিসিসি)’র প্রতিদ্বন্দ্বীদের বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ব্রাজিলের ২৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাও পাওলোতে পিসিসি’র শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
ফন্টেস বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েদিদের সঙ্গে যখন আলোচনা চলছিল, তখন তাদের কোন দাবি প্রায় ছিলই না।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা যা চেয়েছিল তা করেছে। তারা প্রতিপক্ষের সদস্যদের খুন করতে চেয়েছিল।’

স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে, কারাগারটির বাইরে বহু মহিলা এবং বন্দীদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
দাঙ্গা চলাকালে কারাগারটির ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যাবহার করা হয়েছে। এগুলো গোপনে কারাগারের ভেতরে পাচার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৯২ সালে সাও পাওলোর কারানদিরো কারাগারে এরকমই একটি দাঙ্গার পর সেটি দখল করে নিয়েছিল কয়েদিরা। ওই দাঙ্গায় ১শ’ ১১ জন নিহত হয়।
মানাসের দাঙ্গা শুরুর চব্বিশ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ব্রাজিলের ভেঙে পড়া কারাগার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পুনর্গঠন এখনই প্রয়োজন।-বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম