মাস্টারি বিডি | শাহানা পারভীন
ফিচার | ১৫ মে ২০১৯ | ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
বেগুনি পাপিয়া বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির আবাসিক পাখি। ছেলে-মেয়ের বর্ণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ছেলে পাখির পিঠ চকচকে বেগুনি। মাথা, ঘাড়, থুতনি, গলা ও বুক বেগুনি রঙের। পেট ও অবসারণীতে একটির পর আরেকটি সাদা ও বেগুনি-বাদামি ফোটা এমনভাবে সাজানো থাকে। কালচে লেজের আাগা সাদা এবং লেজের বাইরের পালকের প্রান্তদেশে সাদা ডোরা আছে। ঠোঁট উজ্জ্বল কমলা।

মেয়ে পাখির পিঠ সবুজাভ ব্রোঞ্জ। লেজ সবুজাভ, ডগা সাদাটে। বুকের নিচের দিকে সাদা-সবুজাভ-ব্রোঞ্জের ডোরা। ঠোঁট হালকা হলুদ। স্ত্রী-পুরুষ পাখির উভয়ের চোখের বলয় লাল। পা ও পায়ের পাতা বাদামি সবুজ।

আমাদের এ দেশের পাখি হলেও খুব একটা দেখা যায় না। সিলেটের চিরসবুজ বনে কিছু কিছু দেখা যায়- তাও কালেভদ্রে কিছুটা। বাংলাদেশ ছাড়াও এদের বিস্তৃতি রয়েছে পূর্ব ভারত, ভুটান, দক্ষিণ চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে। অন্য প্রজাতির পাপিয়াদের চেয়ে এদের চলাফেরা কিছুটা ভিন্ন রকম। সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বা ছোট দলে বিচরণ করে, যা অন্য জাতের পাপিয়াদের ক্ষেত্রে নজরে পড়ে না।

প্রজনন মৌসুমে ‘চি-উইক চি-উইক’ সুরে সারাদিন গান গায়। পূর্ণিমা রাতে এরা বন মুখর করে তোলে গান গেয়ে। তখন তা শুনতে ভারী ভালো লাগে।
এ পাখির বাংলা নাম ‘বেগুনি পাপিয়া’, ইংরেজি নাম ‘ভায়োলেট কুকু’ Violet Cuckoo.। বৈজ্ঞানিক নাম ‘Chrysococcyx xanthorhynchus’.। গোত্রের নাম ‘কুকুলিদি’।

প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুন। নিজেরা বাসা বানাতে পারে না কোকিলের মত অন্যের বাসায় ডিম পাড়ে। বিশেষ করে মৌটুসি পাখির বাসা ওদের বেশি পছন্দ। ডিমের সংখ্যা ১-২টি। ধাত্রী মাতার আশ্রয়েই শাবক লালিত হয়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম