
মাস্টারি বিডি ।
হবিগঞ্জ । ১৯ মে ২০১৮ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধু মাস। কারণ এ মাসে প্রচণ্ড গরমে চারদিকে পাকতে শুরু করে আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, গোলাপ জাম, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফল, কাউ, শরীফা প্রভৃতি ফল। ফলের এই মৌ মৌ ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ মাস হয়ে ওঠে মধুময়। তবে এবার মধু মাস এবং রমজান মাস এক সাথে হয়ে পড়ায় ফল ব্যবসায়ীরা তেমন একটা লাভবান হবেন না বলে আশংকা করছেন। কারণ রমজান মাসে জাতীয় ফল কাঁঠালের চাহিদা থাকে কম। আবার রমজানের পর অধিকাংশ বাগানের কাঁঠাল এক সাথে পেকে যাবে বলে দাম থাকবে কম।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ফয়জাবাদ পাহাড়ে দেখা গেছে চারিদিকে শুধু কাঁঠাল গাছ। সেখানকার কারো কারো বাগানে কাঁঠালের পাশাপাশি লেবু এবং চম্পা কলার আবাদ হয়। জানা যায়, ওই পাহাড়ে দেড়শ’ বাগান রয়েছে। সব বাগানেই কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানে বাগানের মালিকরা কাঁঠাল আগাম বিক্রি করে দেন পাইকারের কাছে।

হবিগঞ্জের সবচেয়ে বড় ফলের পাইকারী বাজার মুছাই। এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি আড়ত। এই আড়তে বিক্রির জন্য কৃষকরা তাদের কাঁঠাল নিয়ে আসেন। প্রতি ১শ’ হিসাবে নিলামের মাধ্যমে এই কাঁঠাল বিক্রি হয়। মুছাই থেকে ট্রাক ভর্তি হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায় এই কাঁঠাল। এখন বিদেশেও যাচ্ছে হবিগঞ্জের কাঁঠাল।

জানা যায়, সরকারীভাবে অত্যন্ত পুষ্টিকর কাঁঠাল ফলের ফলন বাড়ানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কাঁঠাল উৎপাদন করলে একই সাথে ফসল এবং কাঠ পাওয়া যায়। কাঁঠাল গাছের পাতা থেকে শুরু করে কাঁঠালের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করা যায় বলে অন্যান্য ফলের তুলনায় এটি লাভজনক। এছাড়াও কাঁঠাল উৎপাদনে তেমন যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। একটি গাছ বহু বছর পর্যন্ত ফলন দেয়। তবে বন্যা মুক্ত এলাকায় কাঁঠালের বাগান করা উচিত। কারণ দীর্ঘদিন এই গাছ পানি সহ্য করতে পারে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম