শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ | মাসস
বাংলা চলচ্চিত্রের এক অবিস্মরণীয় নাম উত্তম কুমার। যার প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরের ৫১ আহিড়ীটোলা স্ট্রিটে জন্ম নেওয়া এই মহানায়কের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। তার বাবার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায়, মায়ের নাম চপলা দেবী। উত্তম কুমার নিম্নবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন বলে ছোটবেলায়ই তাকে হাল ধরতে হয় সংসারের।
১৯৪৬ সালে কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন তিনি। আর মাইনে পেতেন মাসিক ২৭৫ টাকা। তবে চাকরি করলেও অভিনয়ের নেশায় সারাক্ষণই মগ্ন থাকতেন তিনি। এ সময় তিনি থিয়েটারে অভিনয় করতেন এবং নানাভাবে চেষ্টা করতেন যদি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। ১৯৪৭ সালে উত্তম কুমার তার এক বন্ধুর সহযোগিতায় একটি হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। সিনেমার নাম ‘মায়াডোর’। পাঁচ দিনের কাজের জন্য তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন দৈনিক পাঁচ সিকি করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার সেই সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার নাম ‘দৃষ্টিদান’। এই ছবিতে তিনি উত্তম কুমার নয়, বরং অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে অভিনয় করেছিলেন।
তবে ছবিটি দর্শক মহলে সাড়া জাগাতে পারেনি। এমনকি তার পরের ছবি ‘কামনা’ও ব্যর্থ হয়। যদিও সেই ছবিতে তিনি জন্মনাম পরিবর্তন করে নাম নিয়েছিলেন- উত্তম চ্যাটার্জি। পরে আবার নিজের নাম পরিবর্তন করেন। অরূপ কুমার। আর অভিনয় করেন ‘নষ্টনীড়’সহ তিনটি ছবিতে। কিন্তু সফলতা আসেনি। বারবার ব্যর্থ হয়ে হাসি-ঠাট্টার পাত্র বনে যাওয়া উত্তম কুমার প্রথম দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। এরপরের গল্প কেবলই সাফল্যের। আর সেই সাফল্যই তাকে এনে দেয় ‘মহানায়ক’-এর মর্যাদা। ১৯৮০ সালের আজকের দিনে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন কোটি দর্শকের মনের মণিকোঠায় স্থান পাওয়া এই কিংবদন্তি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম