
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ০২ মে ২০১৯ । ১৯ বৈশাখ ১৪২৬
কনকচাঁপা আমাদের অতি পুরনো ও দুষ্প্রাপ্য ফুল। দুর্লভ হওয়ার কারণে ফুলটি আমাদের কাছে নামে যতটা পরিচিত, অবয়বে ঠিক ততটা নয়। প্রাচীন ময়মনসিংহ গীতিকায়ও এ ফুলের উল্লেখ আছে :
‘হাঁট্যা না যাইতে কন্যার পায়ে পড়ে চুল – মুখেতে ফুট্টা উঠে কনকচাম্পার ফুল।’
এই ফুলটি আমাদের অতি প্রিয়। তবে কনকচাঁপা কোনো চাঁপা নয়, উদ্ভিদবিজ্ঞানের মাপকাঠিতে এ দুইয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। ঢাকায় আছে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি। বলধা গার্ডেন, শিশু একাডেমির বাগান ও রমনা পার্কে বসন্তে এদের দুর্লভ প্রস্ফুটন চোখে পড়ে। বলধা গার্ডেনের গাছটির কন্যা শিশু একাডেমির গাছটি, চারাটি এনে লাগিয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়ুয়া। রমনা পার্কে এই গাছটির চারা নিয়ে লাগিয়েছেন অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা। এভাবেই আমাদের চারপাশে কিছু কনকচাঁপা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এরা সংখ্যায় খুব বেশি না।

সোনালু বা সোনাইলের ফুল হলুদ রঙের কিন্তু গন্ধহীন। পেল্টোফরামের রং অবিকল কনকচাঁপার মতো, কিন্তু গন্ধ অত্যুগ্র। কনকচাঁপা অবশ্য এসব ত্রুটিমুক্ত। বর্ণে, গন্ধে সে অনুপম, অনন্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

কনকচাঁপা ছোটখাটো ধরনের গাছ। এর কাণ্ড মসৃণ ও বাকল ধূসর রঙের। মাথার দিকে ডালপালাগুলো কিছুটা ছড়ানো ধরনের। শীতের শেষে সব পাতা ঝরে পড়ে। আবার বসন্তের একটু ছোঁয়া পেলেই যেন প্রাণ ফিরে আসে। তখন তামাটে রঙের কচি পাতাগুলো হাওয়ায় দোল খায়। তার পরপরই হলুদ সোনালি রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। পরাগ রেণুর প্রলোভনে ছুটে আসে ভ্রমরার দল। এদের মঞ্জরি ছোট হলেও সংখ্যায় অজস্র। হলুদ পরাগচক্রে বহু কেশরের সমাহার। কিন্তু দিন কয়েক যেতে না যেতেই নিঃশেষ হয়ে আসে ফুল। গাছতলায় তখন শুধুই ঝরাফুলের রোদন। ফুল ঝরে পড়ার পর লালচে ঢাকনার ভেতর গোল গোল ফল হয়। এই গাছের শিকড় দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা। সাঁওতালরা এই শিকড় সর্প দংশনের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে। ছালের রস হজমিকারক। কাঠ শক্ত এবং লাঠি, খুঁটি ইত্যাদির উপযুক্ত।

কনকচাঁপার আদিনিবাস আমাদের দেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ। বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ ওকনা গ্রিক শব্দ, অর্থ হলো নাশপাতি। ওর কোনো কোনো প্রজাতির সঙ্গে নাশপাতির পাতার সাদৃশ্য থেকেই এই নামকরণ। শেষ অংশ স্কোয়ারোজা লাতিন শব্দ, অর্থ হলো রুক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম Ochna squarrosa.।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম