মাস্টারি বিডি
ঢাকা । ২০ আগস্ট ২০১৮ । ০৫ ভাদ্র ১৪২৫
স্বাভাবিক নিয়মে দুই বছর কর্ম দিবসের শেষে এক নাগাড়ে দুই মাস ছুটি মেলে প্রবাসীর। বিমানের রিটার্ন টিকেটও মেলে। ছুটির সব কিছু প্রস্তুত হলে সংবাদটি জানিয়ে সবার সাথে হাত মিলিয়ে যান। অতঃপর বন্ধুরা তাকে এগিয়ে দিয়ে আসে এয়ারপোর্টে। ছুটির এই দিনগুলিতে দেশের মাটিতে পরিবার পরিজনের সাথে আনন্দ উল্লাসে অতিবাহিত করেন। আবার যথাসময়ে ফিরে আসেন কর্মক্ষেত্রে এবং কাজে-কর্মে মনোনিবেশ করেন। তাদের মধ্য কেউ কেউ বছর ঘুরতে না ঘুরতে একদিন হাসি মুখে মিস্টির প্যাকেট হাতে হাজির হন। মুখ মিষ্টি হাসিতে ভরে দিয়ে বলেন, “মেরা লাড়কা আথবা লাড়কি হুয়া”। তারপর উপস্থিত সকলের সাথে কিছুক্ষণ হালকা বাতচিৎ শেষ করেন। মিষ্টি বিতরণ করেন। বাত-চিতের এক পর্যায়ে হাসির ফোয়ারাও ওড়ে। দ্রুত স্থান ত্যাগ করে আপন কর্মে মনোনিবেশ করেন। সময়ের অনেক মূল্য সেখানে।

কিন্তু এই প্রথার ব্যতিক্রম দেখা গেল। অটোমোবাইল ওয়ার্কশপের মিশরী ফোরম্যানের এহেন সুসংবাদের মিষ্টি আমাদের ম্যানেজার সাহেব খেলেন না। সংবাদটি তার অফিসের পিয়ন জানায়। তিনি ইতিপূর্বে কখনো এমন করেননি। বরং তিনি এ ধরনের সংবাদে আনন্দিত হন। মিষ্টিমুখও করেন। পরে অবশ্য জানা গেল, ফোরম্যান সাহেব ছুটির জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই তিনি দেশে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাটিয়েছেন প্রায় দেড়মাস। সেখানে নাকি মাস-দিনের কিছুটা হেরফের ছিল। তবে আমাদের কথা ছিল ম্যানেজার সাহেব মিষ্টি গ্রহণ করুক আর না করুক আমাদের ফোরম্যান সাহেব পুত্র সন্তানের জনক। আর এটাই ছিল আমাদের আনন্দ।
সংসার জীবনের শুরু থেকে ভারতের লিলি ফিলিপ কয়েকদফা দুই মাস মেয়াদী ছুটিতে গিয়েছে। পরিবারের সাথে কাটিয়েছেন স্বচ্ছন্দে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তাকে কোন করুণা করেননি। তার সহধর্মিনীর আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত হয়নি। আর পথ চাওয়ারও শেষ হয়নি। এভাবে কেটে গেছে ৮/৯ বছর। অবশেষে হতাশায় আছন্ন হয়ে ছুটে এসেছে মরুভূমির দেশে তার স্বামীর কর্মক্ষেত্রে। তাদের নিকটজনেরা সবধরনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আশায় ক্ষীণ আলো আন্দাজ করে মরুভূমি ত্যাগ করেছে। অবশেষে একদিন কোল জুড়ে এসেছে পুত্র সন্তান । মাতৃত্বের আনন্দে আত্মহারা স্ত্রী তার সোয়ামীকে ধন্যবাদ দিয়েছে। আর সে সংবাদ পেয়ে লিলি ফিলিপ সারাদিনই মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
-অরবিন্দ আদিত্য
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম