
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
আন্তর্জাতিক । ০৫ অক্টোবর ২০১৮ । ২০ আশ্বিন ১৪২৫
২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইরাকের ইয়াজিদী মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ ও কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজি। আজ শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁদের নাম ঘোষণা করে। বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়।

নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রেইস এন্ডারসেন বলেন, যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে যৌন সহিংসতার ব্যবহার প্রতিরোধে অবদান রাখায় নাদিয়া মুরাদ ও ডেনিস মুকওয়েজিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

ডেনিস মুকওয়েজি ও নাদিয়া তাঁর জীবনের একটা বড় সময় ব্যয় করেছেন কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে যৌন সহিংসতার শিকার মানুষের সাহায্যার্থে।
যৌন নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছেন চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজি।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় ছোট্ট গ্রাম কোচোতে স্বপরিবারে থাকতেন ইয়াজিদি তরুণী নাদিয়া মুরাদ। ২০১৪ সালে ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী (আইএস) ঢুকে পড়ে কোচোতে। একদিন গ্রামের সবাইকে অস্ত্রের মুখে একটি স্কুলে ঢোকানো হয়। পুরুষদের আলাদা করে স্কুলের বাইরে দাঁড় করানো হয়। এর পরই মুহুর্মুহু গুলিতে নাদিয়ার ছয় ভাইসহ সব পুরুষকে হত্যা করা হয়। পুরুষদের হত্যা করার পর আইএস জঙ্গিরা নাদিয়া ও অন্য নারীদের একটি বাসে করে মসুল শহরে নিয়ে যায়। সেখানে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হন নাদিয়াও। আইএসের যৌনদাসী হিসেবে বেশ কিছুদিন থাকার পর পালিয়ে আসেন তিনি।

এদিকে আইএসের কাছ থেকে পালিয়ে আসার পর নাদিয়া মুরাদ জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হন। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী আমাল ক্লুনির সঙ্গে আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দী ইয়াজিদি নারী ও যাঁরা পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

নোবেল কমিটির ভাষ্য, নাদিয়া এত কষ্ট সহ্য করেও অন্যদের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন। সূত্র : বাসস ও প্রথম আলো
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম