মাস্টারি বিডি । বাঁধন
ফিচার । ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ । ০৯ পৌষ ১৪২৫
‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’
একসময়ের গ্রামীণ জীবনে ঢেঁকি পারানোর একটানা শব্দ, গরুর হাম্বা ডাক ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই ঢেঁকিতে ধান চাল ভানতেন। সময়ের বিবর্তনে কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে ঢেঁকি। অথচ এই ঢেঁকি সাহিত্যে এসেছে নানাভাবে- প্রবাদ তৈরি হয়েছে ঢেঁকি নিয়ে। যেমন- ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।’
বাঙালি জীবনে পিঠার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পৃক্ত ঢেঁকি। ঢেঁকি ধান ভানা বা শস্য কোটা এবং পিঠার চাল কোটার জন্য ব্যবহৃত হতো। প্রাচীন কাল থেকে ভারত উপমহাদেশে ঢেঁকি ব্যবহার হয়ে আসছে।

ঢেঁকির গঠন বেশ সুন্দর। এক খণ্ড পাথরের চটান বা কাঠ খণ্ডে গর্ত খুঁড়ে মুষলের সাহায্যে শস্য কোটা হয়। মুষলটির মাথায় লোহার পাত জড়ানো থাকে। মুষলটি ৪/৫ হাত লম্বা একটি ভারী কাঠের আগায় জোড়া লাগিয়ে গর্ত বরাবর মাপে দুটি শক্ত খুঁটির উপর পুঁতে রাখা হয়।
শস্য কোটার জন্য ঢেঁকির গর্তে শস্য ঢেলে দিয়ে এক জন বা দু’জন ঢেঁকির গোড়ায় ক্রমাগত চাপ দেয় যাকে সাধারণত ঢেঁকিতে পার দেওয়া বলা হতো। অন্যদিকে মুষলের আঘাতের ফাঁকে ফাঁকে আরেক জন গর্তের কাছে বসে শস্যগুলো নাড়াতে থাকে। এভাবে একসময় ধান থেকে চাল এবং চাল থেকে গুঁড়া এবং গম, জব, পায়ড়া থেকে আটা, ছাতু ইত্যাদি তৈরি হতো।

যন্ত্রসভ্যতা বা প্রযুক্তির বিপ্লবের এ যুগে গ্রামীণ জনপদেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। জীবন সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। একসময়ের অত্যন্ত কায়িক শ্রমের কাজগুলো যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঢেঁকিতে পার দিয়ে এখন আর কৃষাণীকে ঘাম ঝরাতে হয় না। হলার মেশিনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর ধান চাল ভাঙিয়ে নেওয়া যাচ্ছে খুব সহজে।

তবে সেই অতীত স্মৃতি কেবলি পেছনে ফিরে দেখার আহ্বান জানায় আমাদের। ঢেঁকিতে পার দিতে দিতে গান ধরতো কৃষাণ বউ ঝিরা। কী আবেদন ছিলো সেই গান গীতের। তাতো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সেই পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম। মুড়ি, মুড়কি, চিড়া, নাড়ু, খই, ছাতু, মোয়া ইত্যাদির উৎসব আয়োজন সেভাবে আর চোখে পড়ে না আজকাল। কারণ এসব অনুসঙ্গের সঙ্গে যে ঢেঁকির যোগসূত্র ছিলো অবিচ্ছেদ্য।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম