মাস্টারি বিডি ডটকম ।
জয়পুরহাট । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ । ০৪ ফাল্গুন ১৪২৪
তিন শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ মহাতীর্থস্থান বেলআমলা বারশিবালয় মন্দিরে বুধবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দু’দিন ব্যাপী শিবরাত্রি উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হলো । দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হিন্দু ভক্তদের পদভারে এখন মুখরিত হলো বেলআমলার ঐতিহাসিক বারশিবালয় প্রাঙ্গণ।
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরদিকে অবস্থিত বেলআমলা বারশিবালয় মন্দির। যার আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে একশিব মন্দির ও পাঁচশিব মন্দির নামে আরো দুটি মন্দির। ফাল্গুনের চতুর্দশীতে শিবরাত্রি উপলক্ষে প্রায় তিন শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ৪ প্রহরব্যাপী পূজার পাশাপাশি মেলার আয়োজন করা হয় দু’দিন ব্যাপী ।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক হিন্দু ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের ভক্তদের মুখে ধ্বনিত হয়- “সত্যম শিবম সুন্দরম”, ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় করুণত্রয় হে তবে। “নিবেদয়ামি চাত্মামং ত্বংগতি পরমেশ্বর” ।
আগত ভক্তদের এখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। মনের নানা বাসনা পূরণের আশায় পুণ্যার্থীরা বারশিবালয়ের উত্তর পাশ ঘেঁসে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর জলে বারুনীস্নান শেষে পূজা অর্চনা করেন। মেলায় ছিল বিভিন্ন রকমের চামচ, খন্তা, বেরী, দা, বটি, হাসুয়া, পান কাটি, পূজার ঘরের সাজ, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্র । এ ছাড়াও, কাঠের ও লোহার তৈরি বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্রের বিকিকিনি জমেছিল। শিশুদের খেলনা, শাঁখা-সিঁদুরসহ মিষ্টি-মিষ্টান্নও পাওয়া যায় উঠেছিল ঢের।
শিবরাত্রি উৎসব হিন্দু, বিশেষ করে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও বারশিবালয় মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে হিন্দু-মুসলিমের অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায় ।

বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় জয় মা কালীর অমাবশ্যা পূজার মধ্য দিয়ে পুণ্যার্থীদের মিলন মেলা শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, বারটি শিবমন্দির একসঙ্গে থাকায় এর নাম হয় বারশিবালয়। কত বছর আগে এটি নির্মিত তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও প্রায় তিন শত বছর আগের তৈরি বলে মনে করেন বারশিবালয় মন্দির কমিটির সদস্যরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাতীর্থস্থান বারশিবালয় মন্দিরে শিবরাত্রি উৎসব ও মেলায় সকল ধর্মের লোকজন অংশগ্রহণ করে থাকেন বলে জানান, বারশিবালয় মন্দির কমিটির সভাপতি তারা চাঁদ বাজলা। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম