মাস্টারি বিডি ডটকম । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ০৩ নভেম্বর ২০১৭ । ১৯ কার্তিক ১৪২৪

বাঙালী জাতিকে নের্তৃত্বশূ্ন্য করতে পঁচাত্তরের পনের আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। এর পর পরই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীণ বঙ্গবন্ধুর অনুপোস্থিতিতে নের্তৃত্ব দানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই চার নেতা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কুচক্রী মোশতাকের নেতৃত্বে গঠিত সরকার জাতীয় চার নেতাকে কাছে টানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিন্তু তারা জাতির পিতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মোশতাকের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেন। মোশতাক তাদের প্রথমে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের প্ররোচনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় ৩ নভেম্বর এই চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি সেদিন জাতীয় চার নেতাকে গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহগুলোকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম হত্যার ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকা- পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম