
মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
ফিচার | ঢাকা | ১১ আগস্ট ২০১৯ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৬
বাংলার নিসর্গসৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় জারুলকে উচ্চারণ করেছেন, এভাবে:
এই পৃথিবীর এক স্থান আছে – সবচেয়ে সুন্দর করুণ
সেখানে সবুজ ডাঙ্গা ভরে আছে মধুকুপী ঘাসে অবিরল,
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল।

জারুল বাংলাদেশের নিম্নভূমির একান্ত অন্তরঙ্গ তরুদের অন্যতম। লেজারস্ট্রমিয়া গণের এই উদ্ভিদ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রজাতি। এটি মধমাকৃতির পত্রমোচী বৃক্ষ। ম্লানধূসর মসৃণ কাণ্ডবিশিষ্ট জারুল ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।

এর পত্র বৃহৎ, ৬-৮ ইঞ্চি দীর্ঘ, আয়তাকৃতির মসৃণ ও দেখতে গাঢ় সবুজ। এর পাতার পিঠের রঙ ঈষৎ ম্লান। এর পত্রবিন্যাস বিপ্রতীপ। মঞ্জরী অনিয়ত, শাখায়িত, বহুপৌষ্পিক ও প্রান্তিক।

জারুলের ফুলের বেগুনি বর্ণ যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি শোভন-সুন্দর তার পাঁপড়ির নমনীয় কোমলতা। ছয়টি মুক্ত পাঁপড়িতে গঠিত এর ফুল। যদিও এর রং বেগুনি, তবুও অনেক সময় এর রং সাদার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। গ্রীষ্মের শুরুতেই এ ফুল ফোটে এবং শরত পর্যন্ত তা দেখা যায়।

এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা। নামটির প্রথমাংশ এসেছে সুইডেনের অন্যতম তরু অনুরাগী লেজারস্ট্রমের নাম থেকে। স্পেসিওজা ল্যাটিন শব্দ, অর্থ সুন্দর। ইংরেজি নাম Giant Crape-myrtle, Queen’s Crape-myrtle, Banabá Plant, Pride of India.।

জারুলের আদি নিবাস চীন, মালয় ও বাংলা-ভারতের জলাভূমি অঞ্চল।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম