স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর কাজ ছিল মূলত রেডিও মাইক্রোওয়েভ অপটিক্স-এর তাত্ত্বিক দিক নিয়ে। তিনি তার গবেষণায় এই তরঙ্গের প্রকৃতি ও প্রাণালী ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রেডিও গবেষণায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে- তিনিই প্রথম রেডিও তরঙ্গ সনাক্ত করতে সেমিকন্ডাক্টর জাংসন ব্যবহার করেন। এখনকার সময়ে ব্যবহৃত অনেক মাইক্রোওয়েভ যন্ত্রাংশের আবিষ্কর্তাও তিনি। তিনি গবেষণা করে দেখেছিলেন যে উদ্ভিদের উপর বিভিন্ন প্রকার বাহ্যিক প্রভাবকের প্রভাবে ইলেক্ট্রন প্রবাহের ঘটনা ঘটতে পারে।…

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ । ১১ পৌষ ১৪২৪
বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু সম্পর্কে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ছোটবেলায় লজ্জাবতী গাছের স্পর্শ থেকে প্রথমে অনুভব করেন বৃক্ষের প্রাণ আছে।

তারা বলেন, ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন আশ্চর্যজনক যন্ত্র আবিষ্কার করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। এই নির্লোভ বিজ্ঞানী তার কাজের জন্য নিজের লাভের কথা চিন্তা করেননি। জনকল্যাণের নিমিত্তে সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য পদার্থ বিজ্ঞানী ড. অজয় রায়। জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যক ও অধ্যাপক ড. আহমাদ মোস্তফা কামাল ও অধ্যাপক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য, লেখক ও গবেষক সমর চন্দ্র পাল।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. অজয় রায় বলেন, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর কাজ ছিল মূলত রেডিও মাইক্রোওয়েভ অপটিক্স-এর তাত্ত্বিক দিক নিয়ে। তিনি তার গবেষণায় এই তরঙ্গের প্রকৃতি ও প্রাণালী ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রেডিও গবেষণায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে- তিনিই প্রথম রেডিও তরঙ্গ সনাক্ত করতে সেমিকন্ডাক্টর জাংসন ব্যবহার করেন। এখনকার সময়ে ব্যবহৃত অনেক মাইক্রোওয়েভ যন্ত্রাংশের আবিষ্কর্তাও তিনি। তিনি গবেষণা করে দেখেছিলেন যে উদ্ভিদের উপর বিভিন্ন প্রকার বাহ্যিক প্রভাবকের প্রভাবে ইলেক্ট্রন প্রবাহের ঘটনা ঘটতে পারে।
ড. আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, ১৯১৭ সালে উদ্ভিদ-শরীরতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠানে গবেষণার জন্য উদ্ভিদ ও কৃষি, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং নৃতত্ত্ব বিজ্ঞান বিষয়গুলোর বিভাগ খোলা হয়।
অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, নিরহংকারী এই বাঙালি বিজ্ঞানী রেডিও সিগন্যাল শনাক্তকরণে সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার বিষয়ে তার করা গবেষণাপত্র উন্মুক্ত করে দেন, যেন অন্যান্য বিজ্ঞানীগণ এটি নিয়ে গবেষণা করতে পারেন। না হলে আজ গোটাকয়েক পেটেন্টের অধিকারী হতে পারতেন এই মহাত্মা। স্যার জগদীশই প্রথম প্রমাণ করেন যে প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।
সভাপতির ভাষণে সমর চন্দ্র পাল বলেন, বিজ্ঞানী বসু তার শৈশব ও কৈশোরে লজ্জাবতী গাছের স্পর্শ থেকে প্রথমে অনুভব করেন বৃক্ষের প্রাণ আছে। তারই গবেষণা করতে গিয়ে প্রমাণ করেছেন এই বাস্তবতা। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম