মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাসের মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে ওই অর্থ দিতে হবে।
ক্ষতিপূরণ চেয়ে তারেক মাসুদের স্ত্রীর দায়ের করা এক মামলায় বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় দেন।
তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়; এতে তারেক ও মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী প্রাণ হারান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন মানিকগঞ্জের আদালত।

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় দুটি মামলা করেন ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে পরে মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন ও মিশুক মুনীরের স্ত্রী কানিজ এফ কাজী ও ছেলে সুহৃদ মুনীরের দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এ রুলের শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই দুই আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলা দুটির শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে রোববার তারেক মাসুদের মামলার রায় হলো। অপরটির শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রয়েছে।
আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাতজন এবং বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচজন ও ‘রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির’ পক্ষে একজন সাক্ষ্য দেন।
এ মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। চুয়াডাঙ্গা বাস মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।
সৌজন্যে : সমকাল
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম