মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
প্রতিবেদন । ঢাকা । ০৩ মে ২০১৯ । ২০ বৈশাখ ১৪২৬
বাড়ির উঠনে বা পাহাড়ী এলাকায় একসময় দেখা যেত দৃষ্টিনন্দন ও খেতে সুস্বাদু একটি ফল গোলাপজাম। এখন আর এই ফল তেমন একটা চোখে পড়ে না। সারাদেশেই এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় ফল। তবে উদ্যোগ নিলে এ ফলের সুদিন ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

বিলুপ্ত প্রায় ফল গোলাপজাম পাকলে গোলাপের মত কিছুটা গন্ধ বের হয় বলেই সম্ভবত এ নামকরণ। বৃহত্তর সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাড়ির আশেপাশে একসময় প্রচুর দেখা গেলেও এখন সব অঞ্চলেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই গাছ দীর্ঘদিন অর্থাৎ প্রায় ৪০/৫০ বছর বাঁচে। যতদিন বেঁচে থাকে ততদিনই ফল দান করে।
গোলাপজাম গাছে মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে। গোলাপজামের ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন ।

গোলাপজাম কাঁচা অবস্থায় সবুজাভ এবং কিছুটা শক্ত হলেও পাকলে নরম ও সাদাটে হয়। ভেতরে দু`টি বীজ থাকে, যা থেকে বংশ বিস্তার হয়। টক মিষ্টি স্বাদের এই ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, ক্যারোটিন এবং ক্যালসিয়াম। একটি গোলাপজামে প্রায় ৪০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, বমিভাব দূর করতে এটি কার্যকর। এছাড়া গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে বেশ কয়েকটি গোলাপজাম গাছ আছে। বর্তমানে সেই গাছগুলোর ফল পেকেছে। চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন বাজারেও দেখা মিলছে এই ফলের।
বিলুপ্তপ্রায় এই ফলকে রক্ষা করার তেমন কোন উদ্যোগ নেই দেশে। তবে এখনই উচিৎ এই উপকারী ফলটি রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

গোলাপ জামের বীজ থেকে চারা হলেও সব বীজ জীবন্ত থাকে না। ফলে এর চারা উৎপাদন করা অনেক কষ্টকর।
গোলাপজাম দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ফুলও খুবই দৃষ্টিনন্দন। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে। পাকতে শুরু করলে ধবধবে সাদা অথবা সাদাটে হলুদ হয় বা শুধুই হলুদ হয়। কাঁচা ফল খেতে টক হলেও পাকা ফল খুবই মিষ্টি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম