
মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
বিনোদন ডেস্ক | ঢাকা | ১৬ জুন ২০১৯ | ০২ আষাঢ় ১৪২৬
‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ দক্ষিণাঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকগাথা। এই লোকগাথা অবলম্বনে হৃদি হকের পুনর্কথন ও নির্দেশনায় নাগরিক নাট্যাঙ্গন প্রযোজনা ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ মঞ্চায়ন হলো শনিবার ১৫ জুন সন্ধ্যা ৭ টায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে।

উজিরের চক্রান্তে গিলামাইট বনে গহর বাদশার দুর্দশা ও বানেছা পরীর সঙ্গে তার প্রেমের আখ্যান নিয়ে এগিয়েছে নাটকটির কাহিনি।
কাহিনি প্রসঙ্গে নির্দেশক হৃদি হক জানান, নাটকের উপজীব্য হলো- গিলামাইট বনে বিশ্বিং বাদশা এসেছিলো শিকার করতে। সারা বন খুঁজে শিকার না পেয়ে পরিশ্রান্ত বাদশা যখন দুষছিলো তার ভাগ্যকে ঠিক তখনই অদূর জলাশয়ে হরিণশাবকের আগমনে তীর ছোড়ে বাদশা। পরক্ষণেই মানবসন্তানের কান্নায় বুঝতে পারে কী ভয়ানক নিষ্ঠুরতায় সে তার হাত রাঙালো। অন্ধমুনি সন্তান হারানোর বেদনায় জর্জরিত করলো সন্তানহীন বাদশা বিশ্বিংকে। সেই অভিশাপের পর দুই পুত্রের চন্দ্রমুখ দেখার সৌভাগ্য হলো বাদশার।

রাজ্যজুড়ে যখন আনন্দের বন্যা বাদশার মনে তখন সন্তান হারানোর ভয়। বাদশা আদেশ দিলেন এমন এক দালান তৈরি করা হোক যেখানে চন্দ্র সূর্যের আলো প্রবেশ করবে না। কিন্তু শত আয়োজনেও কি বাদশা আটকে রাখতে পারলো তার নিয়তিকে? বারো বছর বয়সে বিশ্বিং বাদশা যখন বড় পুত্র গহরকে রাজ্যের অধিপতি করলো তখন উজিরের চক্রান্তে গিলামাইট বনে শিকারে যাওয়ার আবদার করলো গহর। গিলামাইট বনে গিয়ে বিশ্বিং বন্দী হলো দানবের হাতে।

বাবার মিতা বলে মৃত্যু থেকে রেহাই পেলেও বানেছা পরীর প্রেমতীরে বিদ্ধ হলো গহর। অবশেষে বহু যুদ্ধ ও সংগ্রাম পেরিয়ে বানেছাকে নিয়ে যখন রাজ্যে ফেরার সময় হলো ততদিনে রাজ্য উজিরের দখলে চলে যায়। বুদ্ধি এবং মেধা দিয়ে গহর তার নিজের রাজ্য পুনরুদ্ধার করলো। জয় হলো সত্য ও সুন্দরের। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী।

প্রযোজনাটির মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন সাজু খাদেম, আবহ, সঙ্গীত পরিকল্পনা, সুর ও সংগীত করেছেন কামরুজ্জমান রনি; আলোক পরিকল্পনা ঠান্ডু রায়হান; নৃত্যভঙ্গি পরিকল্পনায় ওয়ার্দা রিহাব, পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন মাহমুদুল হাসান মুকুল; কোরিওগ্রাফি পরিকল্পনা করেছেন হৃদি হক, সুমন আহমেদ; আবহ সঙ্গীত প্রক্ষেপণে বর্ণ বাদল; আলোক প্রক্ষেপণে জয়নাল আবেদিন পবন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম