মাস্টারি বিডি
টাঙ্গাইল । ২৪ আগস্ট ২০১৮ । ০৯ ভাদ্র ১৪২৫
দূর থেকে দেখতে একটি বট গাছের মত মনে হতে পারে। তবে কছে না গেলে বুঝতেই পারা যাবে না যে এটি একটি ৪শ’ বছর আগের প্রাচীন মিনার। যা প্রাচীনকালের সাক্ষী হিসেবে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আজও দাঁড়িয়ে।
প্রায় ৪শ’ বছর কিংবা তারও আগে কে বা কারা মিনারটি কী কাজের জন্য নির্মাণ করেছিল তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারে না। উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নে বর্নী গ্রামে অবস্থিত এই মিনারটি।

ইট ও প্রাচীন গড়িয়া মাটির সংমিশ্রণে তৈরি মিনারটি দৈর্ঘ্যে ১০ ফুট ও উচ্চতায় ২শ ফুট। মিনারটিতে ৪টি দরজা ও ১৪টি জানালা ছিল। কোন রাজা, সম্রাট বা জমিদার মিনারটি কী কাজের জন্য নির্মাণ করেছিলেন তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না।
বর্নী গ্রামের মিনারের নিকটবর্তী বাড়ির মালিক আজিজ ও কদ্দুস নামের দুই ভাইয়ের মাধ্যমে জানা যায়, আমাদের দাদারাও মিনারটি এরকমই দেখেছেন। তাদের পূর্ব পুরুষরাও নাকি মিনারটি এমনই দেখেছেন। মিনারটি কত সালে কী কাজের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। তবে তাদের ধারণা, প্রাচীন এই মিনারটি ৪শ’ বছরেরও আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।
তারা বলেন, আমরা আমাদের দাদার মুখে শুনেছি এ রকম মিনার আরও তিনটি আছে। সেগুলো কোথায় অবস্থিত তা আমরা বলতে পারবো না। অনেকের ধারণা, প্রাচীন আমলে ভূমি জরিপের জন্য মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জমির কোন সমস্যা হলে এই মিনার থেকে জমির মাপ নেওয়া হত। মিনারটি একটি সীমানা হিসাবে চিহ্নিত করা হত।

আবার অনেকের ধারণা, মিনারটির ওপরে উঠে প্রাচীনকালে নীল চাষের পর্যবেক্ষণ করা হত । আবার কেউ কেউ ধারণা করে বলেন, প্রাচীনকালে কোন এলাকার দুর্ভিক্ষ আছে কি না তা এই মিনারটির ওপরে উঠে দূরবীন দিয়ে দেখতো। মিনারটির উপরে উঠে সমুদ্র দেখা যেত। কালক্রমে মিনারটির ইট ক্ষয়ে ক্ষয়ে ও মাটির নিচে দেবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মিনারটির গায়ে বট গাছ জন্মেছে। দূর থেকে দেখতে বট গাছের মতই দেখায় মিনারটি। কাছে গেলে দেখা যায় এটি একটি প্রাচীন মিনার।
আরেকটি তথ্য পাওয়া যায়, ৬০-৬৫ বছর আগে সরকারি লোক পরিচয়ে মিনারটি পর্যবেক্ষণ করতে আসা ব্যক্তিরা এর চারদিকে ঘেরাও করে রাখতো। দূর থেকে দূরবীন দিয়ে কী যেন দেখতো দিনের বেলায়। অনেকের ধারণা, মিনারটির নিচে কোন মূল্যবান জিনিস ছিল তা সরকারি লোকের পরিচয়ে চোরাই দলের সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে। তবে মিনারটি প্রাচীনকালের সাক্ষী।
এ বিষয়ে লাউহাটী আরফান খান ডিগ্রী কলেজের কৃষিবিদ পুলক চন্দ্র বলেন, মিনারটির নিচে কোন মূল্যবান সম্পদ ছিল কিনা তা জানি না। তবে শুনেছি ৬০-৬৫ বছর আগে সরকারি লোকের পরিচয়ে লোক আসতো পর্যবেক্ষণ করতে। এখন আর আসে না। তবে মিনারটি সম্ভবত ভূমি জরিপ ও জমির মাপ সঠিক রাখার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। এখনো এখানে ভূমির কোন সমস্যা হলে মিনারটি থেকে মাপ নেওয়া হয়।
তবে যে কাজের জন্যই নির্মাণ করা হোক না কেন মিনারটি প্রাচীনকালের সাক্ষী হিসাবে
আজো দাঁড়িয়ে আছে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম