মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
সাহিত্য । ০১ জানুয়ারি ২০১৯ । ১৮ পৌষ ১৪২৫
‘ওইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,/ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।/ এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,/ পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।’/
‘কবর’ কবিতাটি মাত্র ২৩ বছর বয়সে রচনা করে বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন তুলেছিলেন কবি জসীম উদদীন। পল্লীকবি হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। আজ ১ জানুয়ারি কলজয়ী এই কবির জন্মদিন। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জসীম উদদীন পল্লি মানুষের দৃষ্টি দিয়ে লিখেছেন বহু কবিতা, গল্প ও উপন্যাস। শুধু কি তাই, লিখেছেন ‘আমার সোনার ময়না পাখি, আমার হার কালা করলাম রে, কেমন তোমার মাতা পিতা, নদীর কূল নাই কিনার নাইসহ বিখ্যাত অনেক গান। জসীম উদদীনের কাব্যের গঠনপ্রণালী এবং বিষয়বস্তু পাঠককে বাংলা লোক সাহিত্যের প্রগাঢ় আস্বাদন এনে দেয়। তার ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থকে শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খুব অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন তিনি। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় আলোচিত কবিতা কবর লিখেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।
এছাড়াও জসীম উদদীন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক গান রচনা করেছেন। বাংলার বিখ্যাত লোক সংগীত গায়ক আব্বাস উদ্দীন, তার সহযোগিতায় কিছু অবিস্মরণীয় লোকগীতি নির্মাণ করেছেন, বিশেষত ভাটিয়ালী ধারার। জসীম উদদীন রেডিওর জন্যেও আধুনিক গান লিখেছেন। পরবর্তী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে, তিনি বহু দেশাত্মবোধক গান লিখেছেন।
জসীম উদদীনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ : রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ, বালুচর, ধানক্ষেত, সোজন বাদিয়ার ঘাট, হাসু, রূপবতী, মাটির কান্না, এক পয়সার বাঁশী, সকিনা, সুচয়নী,ভয়াবহ সেই দিনগুলি প্রভৃতি।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ (মরণোত্তর) অসংখ্য সম্মাননা। তবে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রত্যাখ্যান করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। বাঙলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। জসীম উদদীনের শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে ফরিদপুর জেলার আম্বিকাপুর গ্রামে তার দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম