মাস্টারি বিডি ডটকম । কামাল বারি
২০ নভেম্বর ২০১৭ । ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
কবি বেগম সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর প্রথিতযশা এই কবি, লেখক ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত মৃত্যুবরণ করেন। একাধারে তিনি ছিলেন আমাদের গণতন্ত্রীক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও আপসহীন নেত্রী।
বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। আর এজন্য তিনি ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত হন।
তিনি ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা। তাঁর জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম দেশপ্রেমের মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে আমাদের।
সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৩ সালে রচনা করেন প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। ১৯২৬ সালে সওগাত পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশিত হয়।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’, ‘শান্তি ও প্রার্থনা’, ‘উদাত্ত পৃথিবী’, ‘দিওয়ান’, ‘মোর জাদুদের সমাধি পরে’; গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’; ভ্রমণ কাহিনী ‘সোভিয়েত দিনগুলি’; স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের ডায়েরি’ বাংলাসাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ।
এই মানবতাবাদী কবি ৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদক উল্লেখযোগ্য।
কীর্তিমান মানুষেরা মানব জাতির আদর্শ । তাঁরা যুগে যুগে শতাব্দী থেকে শতাব্দী এদিয়ে দেন মানব সভ্যতাকে। জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও তাঁরা মানুষের আদর্শ প্রেরণা হিসেবে বেঁচে থাকেন। কবি সুফিয়া কামাল আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তিনি তাঁর কাজের মধ্যদিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম