মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
প্রতিবেদন । ঢাকা । ১০ এপ্রিল ২০১৯ । ২৭ চৈত্র ১৪২৫
ইউনুছ একজন জীবনযোদ্ধার নাম। বয়স চল্লিশের কোঠায়। তার জীবনে ঘটে গেছে করুণ এক কাহিনী। শুরুতে ট্রাকচালক হিসেবে পেশার শুরু। বেশ দক্ষতা ও সতর্কতার সাথেই চালাতেন গাড়ি। কিন্তু ২০০৯ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হাটুর নিচ থেকে কাটা যায় তার। বাম পায়েও প্রচন্ড চোট পেয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। শুরু হয় পঙ্গু জীবনের দুঃসময়। চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়। সহায় সম্বল যা কিছু ছিলো সব হারিয়ে অগত্যা ২০১২ সালের দিকে ভিক্ষা বৃত্তি শুরু করেন।
কিন্তু ভিক্ষুকের জীবন ভালো লাগে না ইউনুছের কাছে। নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়। মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে লজ্জা লাগে তার। কিন্তু কী করবেন তিনি। ৪টি ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্ত্রীর মাথায় আকাশ ভাঙ্গার মতো অবস্থা। তাই তখন ভিক্ষার টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতায় অনেক কষ্টে জীবন ধারণ করতে হতো তাদের।
কিন্তু ভিক্ষার বিষয়টা নিজের মন থেকে কখোনো সায় দিতো না ইউনুছের। শেষ পর্যন্ত
স্ত্রী’র তিল তিল করে জমানো টাকা ও ধার দেনা করে ২০১৬ সালের দিকে বোরাক গাড়ি কিনে ১পা দিয়ে চালানো শুরু করে ইউনুছ।
প্রথম দিকে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে রপ্ত হয়ে যায়। এ যেন বড় ধরনের এক লড়াই তার কর্মক্ষম জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার। আর এ সংগ্রামে জিততে তাকে হবেই।
যাহোক, গত প্রায় আড়াই বছরে ধার-দেনা পরিশোধ করে এখন তিনি বেশ ভালো আছেন।
ভোলা জেলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউনুছ। আজ তিনি তার জীবনের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। জয়গুপী গ্রামের এক পা হারানো ইউনুছ অদম্য মনোবল ও নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীলতায় ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বেশ ভালো আছেন। ছেলে-মেয়েরা লেখা-পড়া করছে। এক সময়ের টিনের ঘর ভেঙ্গে চারপাশে পাকা দেয়াল তুলে উপরে টিন দিয়েছেন। পঙ্গু জীবনের অসহায়ত্ব ভুলে কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন সব সময়।
এতে করে তার সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন বোরাক চালিয়ে হাজার টাকা অথবা কোন দিন তার চেয়ে বেশি লাভ থাকে। আর বোরাক কেনার ১ বছরের মধ্যেই তার বোরাক কেনার টাকা উঠে আসে। এক সময়ের ট্রাকচালক ইউনুছ জীবনে হার মানতে রাজি নয়। তাইতো অঙ্গহানীর পরেও বহু চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে জীবন যুদ্ধে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন। সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম