Home / জাতীয় / আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল : নতুন উচ্চতায় গণতন্ত্র
pmmbd

আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল : নতুন উচ্চতায় গণতন্ত্র

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৩ অক্টোবর ২০১৬ । ২৮ আশ্বিন ১৪২৩

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২২ এবং ২৩ অক্টোবর।

সম্মেলনের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে। সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা-উপজেলা শহরে সাজ্জসজ্জা করা হচ্ছে। সম্মেলনের ভেন্যুকে দৃষ্টিনন্দন করতে গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে নানা সাজে সাজানো হচ্ছে।

সম্মেলনের মূল মঞ্চ হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ আকৃতির। মঞ্চের উচ্চতা মাটি থেকে ২৫ ফুট, মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা, মঞ্চের সামনের দিকে স্বচ্ছ কাচের খুঁটিবিহীন একটি গ্যালারি থাকছে- যার আকার ২৩০ ফুট বাই ১২৫ ফুট। সেখানে সাত হাজার অতিথির আসনসহ ৪০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেল করা হচ্ছে।

সম্মেলনে সাড়ে ৬ সহস্রাধিক কাউন্সিলর, ২৭টি গণতান্ত্রিক দেশের দেড় শতাধিক রাজনীতিক, ৩০ হাজার ডেলিগেট এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করবেন। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সম্মেলনের নির্ধারিত রিপোর্ট পেশ করার পর বিদেশি অতিথিরা বক্তৃতা করবেন বলে জানা যায়।

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ২৩ অক্টোবর সারাদেশ থেকে আগত কাউন্সিলরদের নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে মূল কাউন্সিল অধিবেশন।

গুরুত্বপূর্ণ এ অধিবেশনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে।

সম্মেলন উপলক্ষে ইতিমধ্যে দুই ধরনের পোস্টার ছাপানো হয়েছে। সম্মেলনে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। আলোকসজ্জা করা হচ্ছে পুরো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ প্রবেশপথ। ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সব উন্নয়ন।

দিন-রাত ধরে বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে দলটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন ও উন্নয়নের চিত্র। এরই মধ্যে সেসব ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূলমঞ্চের সামনে বালি শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের দৃশ্য।

এছাড়া এই দুই দিন ধরেই রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশদ্বারে এবং সম্মেলন স্থলের চতুর্দিকে একাধিক মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ প্রবেশপথগুলোতে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের বক্তব্যে জানা যায়, একটা জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের জন্য আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে। সেভাবেই সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।

সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজমের মাধ্যমে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্যান্ড আর্ট’-এর মাধ্যমে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে। সেখানে থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্ট কালরাতে হত্যাকান্ডের শিকার সবার প্রতিকৃতি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। সে অনুযায়ী গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ কমিটির মেয়াদ তিন মাস বাড়িয়ে গত ৯ জানুয়ারি দলের কার্যনির্বাহী বৈঠকে কাউন্সিলের জন্য ২৮ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে ১০ এবং ১১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে দলীয় সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সে সময় দ্বিতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

কাউন্সিলর হয়ে আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে শেখ সায়মা হোসেন পুতুল। এই সম্মেলনে ইতোমধ‌্যে কাউন্সিলর হিসেবে নাম এসেছে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিরও। রংপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জয়কে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। আর ববিকে কাউন্সিলর করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। শেখ রেহানা ও পুতুল ঢাকা দক্ষিণের হয়ে জাতীয় কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের মাধ্যমে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও সায়মা হোসেন পুতুল ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দা। উনাদের সম্মানার্থে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে আমাদের কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তুত করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা আপা ও আমাদের নেত্রীর মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর লিস্টে এক, দুই ও তিন নম্বরে রয়েছেন।

দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণের কাউন্সিলরদের তালিকা জমা দেওয়া হবে বলে জানান মুরাদ।

সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা কাউন্সিলরদের হাতেই থাকে। তাদের ভোটেই কমিটি গঠিত হয়।

দলীয় সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা স্বাভাবিকভাবেই কাউন্সিলে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু পরিবার থেকে এবার জাতির জনকের মেয়ে শেখ রেহানা এবং নাতি-নাতনী মিলিয়ে আরও চারজন কাউন্সিলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হানিফের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হয়ে সম্মেলনে যোগ দিবেন- এটা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। আর উনাদের সাথে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও কাউন্সিলর হয়ে যোগ দিচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের এ সম্মানিত সুযোগ্য সদস্যদের সাধারণ কাউন্সিলর হওয়ার মধ্যদিয়ে দেশে একটি নজীর স্থাপিত হলো।  সুশিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এ সদস্যদের দলের লোভনীয় পদ-পদবী পাবার যোগ্যতা রয়েছে। এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অতীতে তা দেখাও গেছে। কিন্তু তা না করে অত্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারায় একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে তাঁরা উঠে আসছেন। এতে করে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলকে সামনে রেখে নতুন উচ্চতায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলো বলে বিশিষ্টজনদের ধারণা।

 

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.