ঢাকা, শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসস
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মিডিয়া ব্রিফিং
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাধারণত বিদেশে মন্ত্রিসভা গঠনের আগেই এ ধরনের কাজ শুরু করা হয়।’ তার মতে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব এবং সেটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সময়সীমা।
চলতি অর্থবছরের জন্য বাস্তবসম্মত সংশোধিত বাজেটের আহ্বান : ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন এবং কঠোর বাজেট-শৃঙ্খলা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতির বেঞ্চমার্ক শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে অর্থনীতিতে তিনটি ‘বাধ্যতামূলক সংকট’ একসঙ্গে কাজ করছে-নাজুক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং সংকুচিত রাজস্ব ও ব্যয়ের পরিসর। এ বাস্তবতায় ২০২৫ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বাজেটে ঋণচাপসহ সব সূচকের হালনাগাদ ও বাস্তবসম্মত পূর্বাভাস অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য ‘মিতব্যয়ী নীতি’ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর জন্য অতিরিক্ত সরকারি অর্থ বরাদ্দ থেকে বিরত থাকা। নতুন সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প আপাতত স্থগিত রেখে চলমান ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বিশ্লেষণ করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জানায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার মতো লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংগঠনটি প্রস্তাব করেছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত। উচ্চ ব্যয়সাপেক্ষ প্রতিশ্রুতিগুলো ২০২৭ অর্থবছর বা তার পর শুরু করা যেতে পারে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কিছু লক্ষ্য পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতেই সঠিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাই সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম