জন্মদিনের এই শুভক্ষণে প্রত্যাশা করি, অচিরেই আমাদের চলচ্চিত্র বিরাজমান দৈন্যদশা থেকে পরিত্রাণ পাবে…
মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩
নায়ক রাজ রাজ্জাক। সেলুলয়েডের ফিতার জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাকের অসংখ্য চরিত্র অমর হয়ে আছে দর্শক হৃদয়ে।
আজ ২৩ জানুয়ারি (সোমবার)। বাংলা সিনেমার এই তারকা অভিনেতার ৭৬তম জন্মদিন।
বরাবরের মতো এবারের জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত এই জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁর ছোট ছেলে সম্রাট বলেন, ‘আব্বার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো এখন। তবে কিছুদিন আগে তাঁর শ্বাসকষ্ট ছিল, এখন তিনি স্বাভাবিক আছেন।’
সম্রাট বলেন, ‘দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে আব্বা সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের ‘তারকাকথন’ অনুষ্ঠানে হাজির হবেন। এরপর বাসায় থাকবেন। তারপরও গতকাল রোববার থেকেই অনেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি শুধু সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, নায়ক রাজের জন্মদিনটিকে সবসময়ই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে চ্যানেল আই। এবারের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে চ্যানেলটি আজ দুপুরে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানটি টানা এক ঘণ্টা সরাসরি প্রচার করবে। অনন্যা রুমা প্রযোজিত এই এক ঘণ্টায় নায়ক রাজ রাজ্জাক দিলরুবা সাথীর উপস্থাপনায় নানা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি ফোনালাপে অংশগ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শারীরিক অসুস্থতার জন্য রাজ্জাক চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন না। তবে ছোট ছেলে অভিনেতা ও নির্মাতা সম্রাটের পরিচালনায় ছোটপর্দায় অনিয়মিত কাজ করছেন। গত বছর জন্মদিনে চ্যানেল আইতে প্রচার হয় তাঁর অভিনীত সম্রাট পরিচালিত বিশেষ টেলিফিল্ম ‘দায়ভার’। এছাড়া সর্বশেষ ঈদে প্রচার হয় সম্রাট পরিচালিত ‘চেয়ারম্যানের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’ টেলিছবি। দুটি টেলিছবিই রাজ্জাকের অনবদ্য অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ফরিদুর রেজা সাগরের উপন্যাস ‘চেনা মানুষ অচেনা মুখ’ অবলম্বনে সম্রাট নির্মাণ করতে যাচ্ছেন ৯০ মিনিটের বিশেষ টেলিছবি ‘চেনা মানুষ অচেনা মুখ’। এরইমধ্যে রানা জাকারিয়া চিত্রনাট্যও তৈরি করেছেন। আসছে গ্রীষ্মকালে সম্রাট বাবাকে নিয়েই এই টেলিছবিটি নির্মাণ করবেন।

জানা গেছে, এবার পারিবারিক আবহে জন্মদিন উদযাপন করবেন নায়ক রাজ।
জন্মদিন প্রসঙ্গে নায়ক রাজ রাজ্জাক বলেন, ‘দেখতে দেখতে আজ ৭৫ বছর পূর্ণ করে ৭৬-এ পা রাখছি। আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় এখনও বেশ সুস্থ আছি। জন্মদিন এলেই পরিবারের সবার কথা খুব মনে পড়ে। বিশেষ করে বাবা মা’র কথা। আল্লাহ যেন আমার বাবা-মাকে বেহেস্ত নসিব করেন। কারণ তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছিলাম বলেই এমন বর্ণাঢ্য নায়ক জীবন হয়েছে আমার। আমার স্ত্রী লক্ষ্মী বিয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক ভালোবাসা নিয়ে সংসারকে আগলে রেখেছেন। তার কাছে সত্যিই আমার অনেক ঋণ। আমার সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়েছে, বাবা হিসেবে এ আমার অনেক পরিতৃপ্তির বিষয়, গর্বেরও। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে নায়করাজের আসনে বসিয়েছে, প্রতি মুহূর্তে সেই ভালোবাসা আমি উপলব্ধি করি।’
নায়ক রাজ আরও জানান, জন্মদিনের এই শুভক্ষণে প্রত্যাশা করি, অচিরেই আমাদের চলচ্চিত্র বিরাজমান দৈন্যদশা থেকে পরিত্রাণ পাবে।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ- তাঁরা যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে চিত্রজগতের সোনালি দিনকে ফিরিয়ে আনেন।
১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন রাজ্জাক। তাঁর পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক। কলকাতার থিয়েটারে অভিনয় করার মাধ্যমে রাজ্জাক তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু করেন।
সিনেমার নায়ক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন ও ইচ্ছা নিয়ে রাজ্জাক ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্মালয়তে সিনেমার ওপর পড়াশুনা ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন। এরপর কলকাতায় ফিরে এসে শিলালিপি ও আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়ে রাজ্জাক তার পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হন।
তৎকালীন প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় এসেও রাজ্জাক চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। তবে প্রথমেই এতে সফলতা না পেয়ে সিনেমার একজন সহকারি পরিচালক হিসেবে ‘উজালা’ ছবিতে পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারি হিসেবে কাজ শুরু করেন।

’৬০-এর দশকে সালাউদ্দিন পরিচালিত হাসির ছবি ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’-এ একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রাজ্জাক ঢাকায় তার অভিনয় জীবনের সূচনা করেন। এরপর প্রতিভাবান পরিচালক জহির রায়হান তাঁর লোক ছবি ‘বেহুলা’তে রাজ্জাককে লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ করে দেয়ার মধ্যদিয়ে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। ‘বেহুলা’ ছবিতে সুচন্দার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রাজ্জাককে।
৬০-এর দশকের শেষ থেকে ’৭০ ও ’৮০-এর দশকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন রাজ্জাক। অভিনয় করেন ৩ শ’রও বেশি চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায়। রাজ্জাক অভিনীত জননন্দিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, মধু মিলন, পীচ ঢালা পথ, যে আগুনে পুড়ি, জীবন থেকে নেয়া, কী যে করি, অবুঝ মন, রংবাজ, বেঈমান, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, অনন্ত প্রেম, বাদী থেকে বেগম ইত্যাদি।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে রাজ্জাক-সুচন্দা, রাজ্জাক-কবরী, রাজ্জাক-শাবানা ও রাজ্জাক-ববিতা জুটির অনেক সিনেমা দর্শক হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে- যা রাজ্জাককে ঢালিউডের ‘নায়ক রাজ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
এমনকি, চলচ্চিত্রে একমাত্র তিনিই জীবদ্দশায় দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত হন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম