মাস্টারি বিডি ডটকম
যশোর । ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ১৪ মাঘ ১৪২৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যোগ্যদের সার্চ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেখানে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই।
বৃহষ্পতিবার যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাড়িতে অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী মধু মেলার সমাপানী ও মহাকবি মাইকেল মধুসূদন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহাকবির ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ মেলার অয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, কবি নির্মলেন্দু গুণ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সংবাদ বাসস-এর।
ওবায়দুল কাদের বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি সালিশ মানে, কিন্তু তারা তাল গাছ চায়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামকে সার্চ কমিটির সদস্য করায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার মতো একজন অরাজনৈতিক ও যোগ্য ব্যক্তিকে সার্চ কমিটির ছয়জনের একজন করেছেন রাষ্ট্রপতি, এটি অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার বিষয়।
তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি- এমনএকজন গুণী মানুষের সার্চ কমিটিতে থাকার বিষয়ে যারা প্রশ্ন করছেন- তাদের ব্যাপারটা আমাদের ভাবতে হবে। অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালে তারা সাংবিধানিক নানা পদে দলীয় লোক বসিয়েছিলেন বলে এখন সার্চ কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।’
আগামীতে যেন এ ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আয়োজকদের নজর রাখতে বলেন মন্ত্রী।
তিনি মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের কাব্য প্রতিভা, দেশপ্রেম এবং বাংলাভাষার প্রতি ভালবাসার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন,‘তার কারণে বাংলা ভাষার আন্দোলন এবং ভাষা আর দেশের প্রতি ভালবাসার কারণে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। আর এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি আমাদের সোনারবাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি আমরা।’
অনুষ্ঠানে মধুসূদন পদকপ্রাপ্ত কবি নির্মলেন্দু গুণ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ১২ বছর বয়সে কবি মাইকেল মধুসূদনের একটি কবিতা চুরি করে ঢাকায় এক পত্রিকা অফিসে পাঠাই। তখন পত্রিকার সম্পাদক আমাকে লেখেন, এই কবিতাটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের। নিজের চিন্তা ও ভাবনার বিষয়টি কবিতা আকারে লেখার পরামর্শ দেন তিনি।
সেই থেকে এই ৬০ বছর আমি মহাকবির কারাগারে বন্দী ছিলাম। আজ ৭২ বছর বয়সে মহাকবির নামাঙ্কিত ছবিসমৃদ্ধ পুরস্কারটি পেয়ে মনে হচ্ছে, তিনি আমাকে মুক্তি দিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সার্চ কমিটির সদস্য ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণকে মহাকবি মধুসূদন পদক প্রদান করা হয়। তবে ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে কবি মারুফুল ইসলাম পদক গ্রহন করেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম