Home / প্রকৃতি / বিরল পাখি নদীটিটি
gangtiti+mbd-2

বিরল পাখি নদীটিটি

gangtiti+mbd-3

মাস্টারি বিডি । শারমিন সোমা
ফিচার । ঢাকা । ১৯ এপ্রিল ২০১৯ । ০৬ বৈশাখ ১৪২৬

এক দশক আগেও নদ-নদীর ওপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যেতে দেখা যেত নদীটিটি পাখিদের। সম্প্রতি মহানন্দা, ডাহুক ও করতোয়া নদীর পাড়ে বিরল এই পাখির দেখা মিলছে। জোছনা রাতে এ পাখি হাটিটি-হাটিটি বলে ডাকে। পাখিটিকে স্থানীয়ভাবে গাঙটিটি Yellow-wattled Lapwing. নামেই চেনে সবাই। নদীটিটি’র বৈজ্ঞানিক নাম Vanellus malabaricus.।

gangtiti+mbd

নদীটিটি পায়রা আকারের পাখি। পিঠের রং বেলে-বাদামি। মাথার খোঁপা, মাথা, ঘাড়, মুখমণ্ডল, ঠোঁট ও বুকের ওপরের অংশ কালো। বুক ধূসর-বাদামি। পেট সাদা ও পেটের মাঝখানটা কালো। লেজের শেষ প্রান্ত, পা, আঙুল ও নখ কালো।

নদীটিটি স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও আকারে পুরুষগুলো খানিকটা বড় হয়। বাচ্চাদের মাথায় সাদা ফোঁটা এবং পিঠে হলুদ ও গাঢ় দাগ থাকে।। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম।

gangtiti+mbd-4

গাঙটিটি নুড়িপাথর, বালু দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। পঞ্চগড়ের নদীগুলোতে হিমালয় থেকে বালুর সঙ্গে ভেসে আসে নুড়িপাথর। নদীটিটি পাখির ডিম জলপাই রঙের হয়। শত্রুর হাত থেকে ডিম বাঁচাতে নুড়িপাথর আর জলপাই রঙের ডিম মিলেমিশে একধরনের ছদ্ম পরিবেশ তৈরি করে এ পাখি। এ ছাড়া বাসার ধারে-কাছে মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর উপস্থিতি টের পেলেই শত্রুকে বিভ্রান্ত করতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে জোরে ডাকাডাকি করতে থাকে।

gangtiti+mbd-5

স্ত্রী গাঙটিটি তিন-চারটি জলপাই রঙের ডিম পাড়ে। ২২-২৪ দিনে বাচ্চা ফোটে। পা ও ঠোঁট ছাড়া সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো দেখতে একদম ডিমের রঙের মতোই মনে হয়। ডিম থেকে বের হয়ে ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই বাচ্চারা মা-বাবার সঙ্গে বাসা ছেড়ে হাঁটা দেয়।

gangtiti+mbd-6

গাঙটিটি পাখির বাচ্চারা বিপদ টের পেলেই মুহূর্তে মাটির সঙ্গে নিজেদের গায়ের রং মিলিয়ে একাকার হয়ে যায়।

gangtiti+mbd-7

সব পাখির ওড়াউড়ির মধ্যেই একটা ছন্দ থাকে। নদীটিটি পাখিদের ওড়ার ছন্দটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 26 01

মঙ্গলের বারতায় শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস মঙ্গলের বারতায় উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.