
মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
ফিচার । ০২ জানুয়ারি ২০১৯ । ১৯ পৌষ ১৪২৫
একসময়ের জমজমাট বিনোদনের মাধ্যম দিন বদলের সাথে সাথে হারিয়ে যায়। আর এটাই বোধহয় সময়ের অনিবার্য নিয়ম।

কিন্তু স্মৃতি জাগানিয়া সেই সব অতীত চাইলেই কি ভুলে থাকা যায়? যায় না। বায়োস্কোপের কথাই যদি বলি- স্মৃতির পাতায় বায়স্কোপ কি আজও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে না?

একটি রঙিন বাক্স। ভাবা যায়, সেটিই একসময় ছিলো বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম! ইতিহাস মতে, স্টিফেন্স নামক এক বিদেশি বাংলায় প্রথম বায়স্কোপ দেখান। ১৮৯৬ সালে একটি থিয়েটার দলের সঙ্গে স্টিফেন্স কলকাতায় এসেছিলেন।

এরই মধ্য দিয়ে বাংলায় বায়স্কোপ পূর্ণ করছে তার ১২২ বছর। এমনি করে হয়তোবা একদিন বায়স্কোপের স্থান হবে জাদুঘরে। তবে এই বায়োস্কোপ বা টকি বা টগি যাদের কাছে জাদু ছড়িয়েছে মনে রং ধরিয়েছে- যাদেরকে বিনোদিত করেছে তাদের কাছে আজীবন বেঁচে থাকবে স্মৃতির পাতায়।

বায়স্কোপ দেখানো শুরু হতো ‘কী চমৎকার দেখা গেল’ বলে আর শেষ হতো ‘কী চমৎকার দেখা গেল – রঙ্গের খেলা ভঙ্গ হলো’ দিয়ে। ছবির মাধ্যমে একটি কাহিনি বলাই ছিলো বায়স্কোপের কাজ।

কাহিনিতে আগে থাকত ক্ষুদিরামের ফাঁসি, বেদের মেয়ে জোছনা, মক্কা-মদিনা, আগ্রার তাজমহল, কারবালা-প্রান্তরের যুদ্ধ, তীরবিদ্ধ রক্তাক্ত দুলদুল ঘোড়া ইত্যাদি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে ছবি ও কাহিনিতে। এরপর যোগ হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী, রাজাকারের সাজা হলো, আলোমতি কন্যা, সাদ্দাম-বুশের যুদ্ধ ইত্যাদি।

বায়োস্কোপ কারিগরদের ভাঙা গলার সুরেলা আওয়াজের সাথে করতাল বাজিয়ে ‘কী চমৎকার দেখা গেল’ বাক্যটি অত্যন্ত মুগ্ধতা ছড়াতো।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম