Home / বিনোদন / নাটক / জাতীয় নাট্যোৎসবে নাট্যম প্রযোজনা : ‘তিলক’
tilakmbd

জাতীয় নাট্যোৎসবে নাট্যম প্রযোজনা : ‘তিলক’

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৩

জাতীয় নাট্যোৎসবে আগামী ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় ঢাকা শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাট্যম প্রযোজিত নাটক ‘তিলক’ প্রদর্শিত হবে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন আশিক সুমন। প্রযোজনা অধিকর্তা বাসুদেব ঘোষ।

প্রসঙ্গ : তিলক
বাঙালি জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ যে তিলক চিহ্নটি বহন করে চলেছে- তা হলো ১৯৭১। নিঃসীম মহাকালের বুকে ১৯৭১-এর জন্ম আর বাংলার জেগেওঠা ধ্রুবতারার মতো প্রজ্জ্বলিত হয়ে এখনো সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের কথা সরবে বলে যাচ্ছে। কত অজানা অচেনা বীর যোদ্ধার রক্তে লাল হয়েছে এই বাংলার মাটি। তাঁদের অনেকের কথাই আমরা জানি না। কালের ধূসর ধূলায় ঢাকা পড়েছে তাঁদের সেই প্রাণবন্ত সাহসী মুখগুলো। কিন্তু আমরা সেই প্রিয় মুখগুলোকে ফিরে পেতে চাই। আমরা এই প্রজন্ম বীর যোদ্ধাদের সম্মানে ও সন্ধানে বদ্ধ পরিকর। সেই সূত্র ধরেই নাটক ‘তিলক’। তত্‍কালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্-এর সিগন্যাল কোরের সৈনিকদের মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান তা বলে শেষ করার নয়। ‘তিলক’ নাটকটি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্-এর সিগন্যাল কোরের চিফ ইনঞ্জিনিয়ার সুবেদার মেজর শওকত আলী ও তাঁর সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের এক বীরত্বগাথা।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি পৌঁছে গিয়েছিলো তত্‍কালীন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস্-এর সিগন্যাল রুমে। সেখানে কর্তব্যরত চিফ ইন্জিনিয়ার সুবেদার মেজর শওকত আলী অসীম সাহসিকতার সাথে সেই ঘোষণাটি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন পূর্ব বাংলার সকল জেলায়। সেই দিনই রাত ১ টায় মেজর শওকত আলী ও আরো কয়েকজন মুক্তি যোদ্ধাকে ট্রান্সমিটার ও স্বাধীনার ঘোষণা সমেত হাতেনাতে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় পাক হানাদার বাহিনীর টর্চার সেলে। সেখানে আরও গোপন সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাঁদের উপর চালানো হয় ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বর অত্যাচার। অবশেষে পাক হানাদার বাহিনী শওকত আলী ও তাঁর সঙ্গীদের মনোবলের কাছে পরাস্ত হয়ে নির্মমভাবে তাঁদেরকে হত্যা করে। শহীদ সুবেদার মেজর শওকত আলীর সেই চরম উত্তেজনাকর দিনগুলি মূর্ত হয়েছে ‘তিলক’ নাটকে ।

নাটকটি নির্মাণ প্রসঙ্গে নির্দেশক আশিক সুমন বলেন, জীবন আর শিল্পের বাস্তবতা দু’টি আলাদা বিষয় । তাই নাটকের স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে ‘৭১-এর সেই ঘটনাগুলোর আমি স্থান-কাল-পোশাক ও চরিত্রের পরিবর্তন করেছি মাত্র । আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাতে বিষয় ও ঘটনার উপর কোনরূপ প্রভাব পড়েনি । ‘তিলক’ নাটকের এমন একটি আবেগঘন উত্তেজনাকর প্লটে বাইরের কোন কিছু সংযোজন করার প্রয়োজন বোধ করিনি । সেই দিনগলির রূপ-রস-গন্ধই শুধু অভিনেতাদের অনুভূতিতে জাগিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি । এর বেশি কিছু নয় । ‘তিলক’ নাটকটি দাঁড়িয়ে আছে এমনই এক সত্যকে ধারণ করে যেখানে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে যুদ্ধ শুরু হবার অনেক আগে! নাটকটি লিখতে ও নির্মাণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় যিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উত্‍সাহ দিয়েছেন তিনি হলেন তত্‍কলীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্-এর সিগন্যাল কোরের চিফ ইন্জিনিয়ার শহীদ সুবেদার মেজর শওকত আলীর একমাত্র সন্তান ড. সেলিনা পারভীন (রিতা) । আমি তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ ।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 25 12 1

গ্রামের বাড়িতে গেলে সময়করে নলতা গ্রামের মাজার শরীফে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসি । আফজাল হোসেন

ঢাকা, সোমবার ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসস স্মৃতিকথা নলতা হাইস্কুল, হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ও দরবেশ আলী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.