Home / উদ্যোগ / চাঁদপুরে ২শ’ ১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পাচ্ছে মানুষ
comunity+clinick+mbd-2

চাঁদপুরে ২শ’ ১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পাচ্ছে মানুষ

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
চাঁদপুর । ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ । ১৪ পৌষ ১৪২৪

চাঁদপুর জেলায় ২শ’১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পাচ্ছে গরিব অসহায় মানুষ ।

চাঁদপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় ২শ’১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে- যা গ্রাম ও পাড়া-মহল্লার অসহায় গরীব ও দুঃস্থদের স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অসামান্য অবদান রেখে চলছে ।

প্রতিটি ক্লিনিকে দৈনিক গড়ে ৪০-৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে সাধারণ রোগীর সেবা, বাচ্চাদের শূন্য থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সেবা, গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারী সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা রয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাসে দু’বার ৩০ প্রকারের ওষুধ দেয়া হয়। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো খোলা রয়েছে।

comunity+clinick+mbdচাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় ৮৯ ইউনিয়নে যেখানে কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল নেই ও অর্ধ-ঘন্টার মধ্যে একজন গর্ভবতী মা খুব স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে আসতে পারে এমন স্থানে প্রতি ৬ হাজার পল্লি এলাকার হতদরিদ্র অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কথা থাকলেও এখনো সবগুলো স্থাপনা সম্পন্ন হয়নি, স্বাস্থ্য বিভাগ ২৯১টি স্থাপনার প্রস্তাব গ্রহণ করার পর ২২৭টি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়, তবে চর এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কারণে মেঘনায় বিলীন হয়েছে ৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ২১৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমানে চালু রয়েছে। চালু কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২শ’ ১০ জন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইটার কর্মরত রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- চাঁদপুর সদরে ৪৪টি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ৪৩ জন, কচুয়ায় ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ৩৩ জন, শাহারাস্তিতে ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ১৮ জন,হাজীগঞ্জে ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ২১ জন, মতলব দক্ষিণে ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ১৫ জন, মতলব উত্তরে ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ৩৩ জন, হাইমচরে ১১টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ১০ জন এবং ফরিদগঞ্জে ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথকেয়ার প্রোভাইটার ৩৭ জন কর্মরত রয়েছে।

এসব ক্লিনিকগুলোতে পল্লি এলাকার জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক ভূমিকা রাখছে। এসব ক্লিনিকে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে।

প্রতিদিন গড়ে ১৫-১৬ সহস্রাধিক শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী মা ও তার, সন্তান প্রসবকালীন সময় ও পরে, নবজাতক শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছে। কোনো কোনো জটিল রোগীকে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ঢাকায় রেফার করে থাকে। আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী, জ্বর, সর্দি, কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া, এ্যাজমা, কীটপতেঙ্গের কামড়ের চিকিৎসা,পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও ব্যবস্থা প্রদান প্রভৃতি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা পাচ্ছে।

এ ছাড়াও জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিসহ ৬টি অত্যাবশকীয় টিকা প্রদান করা হয়। এখানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মী ও ২ শ’ ১০ জন হেলথ প্রোভাইডর নিয়োজিত রয়েছে। প্রতি মাসে সরকারিভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ প্রকারের ওষুধ দু’বারে প্রদান করা হয়। যা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে রোগীদের দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে তৎকালীন আ’লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দেশব্যাপী পল্লি এলাকায় প্রতি ৬ হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বারান্দাসহ ৬ শত্যাংশ ভূমির ওপর একটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বা কলসহ দু’কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জমিদাতা ও স্থানীয় পর্যায়ের ৭ সদস্য বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সার্বিক পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের কর্মরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পল্লির জনগোষ্ঠীর জন্যে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় সফলতা অর্জন করছে । প্রতিটি ক্লিনিকে সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ একজন করে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইটার নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে । তারা প্রাথমিক শিক্ষার স্বার্থে ব্যবস্থাপত্র লিখতেও পারবে। জটিল রোগীদের বেলায় তারা নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করবে।’

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. হারুন অর রশিদ সাগর বলেন, বর্তমান সরকার সবার জন্যে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাজ করছে। বিশেষ করে পল্লির প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্র ও অসহায় সবার কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক একটি। পল্লির জনগোষ্ঠীর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সফলতা অর্জন করছে। ক্লিনিকগুলোতে আন্তরিক পরিবেশে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে । সম্পূর্ণ সরকারিভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে পল্লি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে ভূমিকা রাখছে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 7 2026 222

মাঝপথ থেকে ফেরি ঘুরিয়ে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.