মাস্টারি বিডি ডটকম
কুষ্টিয়া । ১৩ মার্চ ২০১৭ । ২৯ ফাল্গুন ১৪২৩
‘আর কি হবে এমন জনম’ সাঁইজির এমন মর্মবাণীকে ধারণ করে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় চলছে লালন স্মরণোৎসব। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন মঞ্চে প্রধান অতিথি থেকে তিন দিনব্যাপী এ স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার এস এম মেহেদি হাসান, জিপি অ্যাডভোকেট আসম আখতারুজ্জামান মাসুম ও লালন একাডেমির অ্যাডহোক কমিটির সদস্য তাইজাল আলী খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালন একাডেমির অ্যাডহোক কমিটির সদস্য সচিব ও এনডিসি মোহাম্মদ আতিকুল মামুন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুমারখালি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার ও লালন একাডেমির অ্যাডহোক কমিটির সদস্য সেলিম হক।

আলোচনা করেন লালন মাজারের খাদেম মোহাম্মদ আলী।
আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে লালন মঞ্চে বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় লালন সংগীত। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন সাঁইজির ভক্ত-সাধু-গুরু বাউলরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সংগীত। উৎসবকে ঘিরে পুরো একাডেমি চত্বরে বাউল-ভক্তরা খন্ড খন্ড স্থানে গান পরিবেশন করছেন।
লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায়, ১১ মার্চ শনিবার রাত ৮ টায় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন মঞ্চে প্রধান অতিথি থেকে এ স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, আজকের বিশ্বের হানাহানির এই যুগেও লালনের গানের সহজ-সরল উক্তি মানুষেকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছে। সম্প্রীতির বাঁধনে আবদ্ধ করতে মরমী এই সাধক মানব মুক্তির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন ফকিরীবাদ। উপমহাদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ ছাড়াও অন্য ভাষার গবেষকরা লালন সাঁইকে নিয়ে গবেষণা করছে।

লালন সাঁইয়ের গানের মর্মবাণী সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। কীর্তিমান মানুষ সেই এলাকায় বেশি জন্মায় যে এলাকায় আলোকিত গুণি মানুষের কদর দিতে জানে। তিনি বলেন, লালন সাঁইয়ের জন্য কুষ্টিয়া তথা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের বুকে গর্ববোধ করে। ধর্মের নামে সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর নৃশংসতা, বর্বরতা ও হানাহানি করে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালায়। লালন ফকির জাতহীন মানব দর্শন ও মানবতার ভাবধারাকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটি অসাম্প্রদায়িক সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফকির লালন সাঁই একটি বিশ্ববিদ্যালয়। যাকে নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। তাই লালনের দর্শন ও সৃষ্টিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে খুব শীঘ্রই এই অঞ্চলকে পর্যটন এরিয়া হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।-সংগৃহীত
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম