মাস্টারি বিডি ডটকম । মাহবুব আহসান শিমুল
ঢাকা । ২৪ এপ্রিল ২০১৮ । ১১ বৈশাখ ১৪২৪
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
খবরটি নিশ্চিত করে বেলাল চৌধুরীর ছেলে আবদুল্লাহ প্রতীক ইউসুফ চৌধুরী বলেন, রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, লাইফ সাপোর্ট খোলার আগেই তিনি মারা যান। লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসকরা সব চেষ্টাই করেছেন, তবে তাকে বাঁচানো যায়নি।
প্রতীক চৌধুরী জানান, হাসপাতালে তার চাচা, বাবার বন্ধুরা উপস্থিত রয়েছেন। তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
কবি বেলাল চৌধুরী ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, রক্তশূন্যতা, হাইপোথাইরোটিজসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে কবি মূত্রনালির সংক্রমণজনিত ‘সেফটিসেমিয়া’ রোগেও ভুগছিলেন।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আবদুল্লাহ প্রতীক চৌধুরী জানান, দীর্ঘ চার মাস ধরেই বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার অবস্থার আরো অবনতি ঘটায় বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

কিডনি জটিলতা, রক্তশূন্যতা ও থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে গত চার মাস ধরে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কবি বেলাল চৌধুরী। জীবনের শেষ দিনগুলোতে কবি মূত্রনালির সংক্রমণজনিত ‘সেফটিসেমিয়া’ রোগেও ভুগছিলেন। অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ কোরেশীর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী গ্রামে ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রকাশিত ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। রূপালী গ্রুপের ‘সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ’ পত্রিকাটিও তিনি সম্পাদনা করেন। বেশ কয়েক বছর ভারতের কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো ‘নিষাদ প্রদেশে’, ‘আত্মপ্রতিকৃতি’, ‘স্থিরজীবন ও নিসর্গ’, ‘স্বপ্নবন্দী’, ‘সেলাই করা ছায়া’, ‘কবিতার কমলবনে’, ‘যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে’, ‘বত্রিশ নম্বর’।

কবির কলকাতাবাসের সময়ে সেখানে আধুনিক বাংলাকবিতার দিকপাল কবিদের সঙ্গে তার পরম সখ্য গড়ে ওঠে। বন্ধুভাগ্যের দিক থেকে তার জুড়ি মেলা ভার। শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার ছাড়াও মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ, লেরন্স ফার্লিংঘেট্টিসহ দেশ-বিদেশের বহু কবির সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব, চলাফেরা, আড্ডা ও নিবিড় যোগাযোগ ছিল তার। দুই বাংলার কবিদের ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের সূত্রধর ছিলেন তিনি। বিশেষ করে শক্তি চট্টোপাধ্যায় আর বেলাল চৌধুরী ছিলেন এককথায় হরিহর আত্মা। তাদের বন্ধুত্ব ও আড্ডার নানান কাহিনী আজো দুই বাংলার কবিদের আড্ডার বিষয় হয়ে ওঠে।
সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে তিনি একুশে পদক পান। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম