
মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ০৬ মে ২০১৯ । ২৩ বৈশাখ ১৪২৬
নাগেশ্বর এ অঞ্চলের অনেক আদি ফুল। হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতের অনেক স্থানেই নাগেশ্বর সহজলভ্য। তবে সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় তুলনামূলকভাবে একটু বেশি দেখা যায়। পূর্ব-শ্রীহট্টের লোকগীতিতে নাগেশ্বরকে নিয়ে কয়েকটি পংক্তি আছে—
‘নাচেন ভালা সুন্দরী লো/ বাঁধেন ভালা চুল,/ যেন হেলিয়া দুলিয়া পড়ে/নাগকেশরের ফুল।’ যদিও নাগেশ্বর এবং নাগকেশর একই ফুল কিনা, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতভেদ রয়েছে। কিন্তু আমরা ধরে নিতে পারি, গীতিকার এসব মতভেদ নিয়ে একেবারেই ভাবেননি।

দৃঢ়তা, গঠনসৌষ্ঠব, দীর্ঘ জীবন, ফুল ও পাতার সৌন্দর্য এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নাগেশ্বর Mesua nagassarium দীর্ঘাকৃতির বৃক্ষ।

কাণ্ড গোল, সরল, মসৃণ ও ধূসর রঙের। গাছটি দেখতে অনেকটা পিরামিড আকৃতির। সারা বছর নতুন নতুন পাতা গজানো এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

নতুন পাতার রঙ উজ্জ্বল তামাটে রঙের। পাতা সরু ও মসৃণ, আগা তীক্ষ। পাতার বিন্যাস এতই ঘনবদ্ধ যে, গাছ সব সময় ছায়া সুনিবিড় থাকে।

নাগেশ্বরের প্রধান প্রস্ফুটনকাল বসন্ত। তবে বছরের অন্যান্য সময়েও ফুল থাকে। পাপড়ির রঙ দুধ-সাদা।

মাঝখানে আছে এক থোকা সোনালি রঙের পরাগ কেশর। সব মিলিয়ে এ ফুল বর্ণে-গন্ধে অনন্য।

গৃহসজ্জা ও পূজার উপকরণেও কাজে লাগে। ফলের রঙ প্রথমে তামাটে, পরে ধীরে ধীরে বাদামি রঙ ধারণ করে।

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম