মাস্টারি বিডি । শাহানা পারভীন
ফিচার । ঢাকা । ০৬ মে ২০১৯ । ২৩ বৈশাখ ১৪২৬
কানাকুয়া কমলা-কালচে রঙে মেশানো একটা পাখি। বড্ড লাজুক পাখি এরা। দ্রুত পায়ে চলে যায় চোখের আড়ালে। দেখতেও যেন কেমন। গাছের ডালে ঘাড় বাঁকা করে বসে থাকে। কখনওবা সারা দিন শুকনো পাতার ওপর ঘুরে ঘুরে খাদ্য খুঁজে ক্লান্ত হয় পাখিগুলো।

বাঁশবাগান ও আমবাগানে সাধারণত এরা বিচরণ করে। বাগানের এককোণে ঘুরে ঘুরে খাবার খুঁজে। বাগানের ভেতর থেকে ‘কুপ কুপ… কুপ’ শব্দ করে ডাকে। বেশ গুরুগম্ভীর সেই ডাক।

এরা গাছের ডাল বেয়ে বেয়ে উপরে উঠে। এটা ওদের স্বভাব। অন্য পাখিদের চেয়ে ব্যতিক্রম। অন্য পাখিরা সাধারণত এক গাছের ডাল থেকে আরেক গাছের ডালে যায় ছোট্ট একটা উড়াল দিয়ে। কানাকুয়ারা বেশি উপরে উড়তে পারে না। দরকার না হলে উড়ার চেষ্টাও করে না। ওরা গাছেও চড়ে মাটি থেকে। সাধারণত হেলে থাকা গাছে চড়তেই বেশি পছন্দ করে। লাফ দিয়ে এক ডাল থেকে আরেক ডালে যায়। শত্রু কাছাকাছি না থাকলে গাছের নিচু ডালগুলোতেই ঘুরে বেড়ায়। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে উঁচুডালে ওঠে না।

বর্ষাকালে ঝোঁপের আড়ালে ছোট গাছে কলসাকৃতির বাসা বানায়। তালপাতা, বাঁশ, আমের শুকনো পাতা ও শুকনো ঘাস মিশিয়ে তৈরি হয় সে বাসা। বাসার মুখ থাকে আকাশের দিকে। ডিমের সাইজ কবুতরের ডিমের মতো। এক মৌসুমে ৪ থেকে ৭টি ডিম পাড়ে। কানাকুয়ার স্থানীয় নাম : বড় কুবো, কুক্কোপাখি, আড়াইকুতি। ইংরেজি নাম : Greater Cucal.। বৈজ্ঞানিক নাম : Centropus sinensis.।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম