Home / পর্যটন / সোমেশ্বরীর রং রূপ বহতা
shomeshyri+river+mbd-2

সোমেশ্বরীর রং রূপ বহতা

মাস্টারি বিডি । জাকারিয়া তুষার
ফিচার । ঢাকা । ০৬ এপ্রিল ২০১৯ । ২৩ চৈত্র ১৪২৫

অসংখ্য নদ-নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে স্বদেশভূমি বাংলাদেশ জুড়ে। এই নদীমাতৃকতায় সৃষ্টি হয়েছে অপরিমেয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের। বাংলার নদীমাতৃক এই মনলোভা শোভা দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন বহু পর্যটক।
আর নদী শুধু এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ নয়, প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নদীর বুকে ঘুরে বেড়ানো দারুণ এক আকর্ষণের নাম।

shomeshyri+river+mbd-4

নদ-নদী অধ্যুষিত এলাকার নিসর্গ সৌন্দর্যে যারা মুগ্ধ হতে ভালোবাসেন – তারা ঘুরে আসতে পারেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর। কারণ এখানে রয়েছে অপার্থিব সৌন্দর্যের সোমেশ্বরী নদী। এই নদীর স্বচ্ছ নীল জলে রয়েছে অপার মুগ্ধতা।

নেত্রকোনার গারো অধ্যূষিত এলাকা দুর্গাপুরের প্রাচীন একটি নদী হলো সোমেশ্বরী। ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের ঝর্নাধারা থেকে এ নদীর উৎপত্তি। দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছে সোমেশ্বরী। মেঘালয়ের গারো পাহাড় থেকে এটি নেমে এসে মিলেছে জাঞ্জাইলের কংশ নদে। কংশ নদ পর্যন্ত সোমেশ্বরীর ব্যাপ্তি প্রায় ২৫ মাইল। শুধুমাত্র ঢল নামলেই এ নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়।

shomeshyri+river+mbd-3

আগে সোমেশ্বরী দুর্গাপুর ও বিরিশিরি এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ছিল। এ দুই এলাকাকে বিভক্ত করেছিল এ নদী। দুঃখজনক হলেও সত্য, পরে ছোট হয়ে আসে সোমেশ্বরীর আকার। নিরবধী প্রবাহমান এই নদীটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন আগত পর্যটকরা। দুর্গাপুরের মূল সৌন্দর্যই হল এই সোমেশ্বরী নদী।

সোমেশ্বরী নদীর খানিকটা দূরেই দেখতে পাবেন সবুজে ঘেরা গারো পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। নীল আকাশের ছায়ায় কলকলিয়ে বয়ে চলা এ নদীর বুকে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো দারুণ আনন্দের। বর্ষায় এ নদীর পানি থাকে স্বচ্ছ নীল, ঝকঝকে এবং সুনির্মল। এ সময় সোমেশ্বরী ধরা দেয় তার মোহনীয় রূপে। পূর্ণ যৌবন পাওয়া সোমেশ্বরী তখন মনে হয় স্বর্গের ধারা। সোমেশ্বরীর টলটলে জলে ঝাঁপ দিলে মিলবে রাজ্যের প্রশান্তি। ভ্রমণের ক্লান্তি নিমিষে দূর হয়ে যাবে।
আবার বর্ষা শেষে পাহাড়ি ঢল থামলে সোমেশ্বরীর পানি কমে গিয়ে হাঁটু পরিমাণ হয়। এ সময়টাতে এ নদীর আশপাশ যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়। এ সময় সোমেশ্বরীর দু’পাশে জেগে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। এই হাঁটু পানিতে নেমে হাঁটাহাঁটি করতে তখন দারুণ অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

shomeshyri+river+mbd

সোমেশ্বরীর নামকরণ নিয়েও কিন্তু রয়েছে নানান লোককাহিনী। কারো কারো মতে, এ নদীর আদি নাম ‘সমসাঙ্গ।’ আবার কেউ কেউ বলেন, ‘সিমসাং’। তবে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ এ অঞ্চলের দখল নেওয়ার পর থেকে নদীটির নাম হয় সোমেশ্বরী।
সোমেশ্বরীতে রয়েছে ‘কালো সোনা’। মাটি তুলতে তুলতে সেটার ভেতরে মুক্তার দানার মতো কালো রঙের খনিজ পদার্থ মেলে বলে এর নাম কালো সোনা। এটির খনিজ মূল্য আছে। এছাড়াও এখান থেকে তোলা হয় কয়লা আর বালু। এই সোমেশ্বরীর তীরেই রয়েছে সাদামাটির অপরূপ পাহাড় বিজয়পুর। সাদা ছাড়াও গোলাপী, লাল, বেগুনী, ও ধূসর মূল্যবান মাটি এই সোমেশ্বরীরই বৈচিত্র্য।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 2026 9090003

বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.