Home / জাতীয় / প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের পুরস্কার দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন
pmpressconmbd-2

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের পুরস্কার দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০১৬ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৩

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফিরে আজ রোববার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন রাষ্ট্রীয় গণমাধ‌্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৭ দিনব্যাপী যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ব্যস্ত সফরের পর ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে দেশে ফেরেন তিনি। এ সফরে শেখ হাসিনা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ছাড়াও বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। একইসঙ্গে ভূষিত হন ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ এওয়ার্ড’ পুরস্কার ও ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ খেতাবে।

আজকের সম্মেলনে নিজের অর্জন করা ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ এওয়ার্ড’ পুরস্কার দেশবাসীকে উৎসর্গের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার পুরস্কার দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আমার বক্তৃতায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মদতদাতাদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমি বাংলায় বক্তব্য দেই। বক্তৃতায় অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যুটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ করি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।

বক্তৃতায় শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলেও জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ৩৫ বছরে এ প্রথম তিনি ব্যক্তিগত ছুটিতে টানা ৫ দিন কাটালেন। এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পর ৫ দিন ওয়াশিংটনে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় কাটান প্রধানমন্ত্রী। এই সময়টিকেই তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ছুটির সময় বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সময় যদিও আমি ৫১টি ফাইল স্বাক্ষর করেছি, কিন্তু তাতেও সময়টিকে আমি আমার ছুটি হিসেবেই ধরতে চাই।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রথম দফায় ২০০৯-২০১৪ পর্য়ন্ত দ্বিতীয় এবং ২০১৪ থেকে তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে যারা এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা বন্ধ করেছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।

চ‌্যানেল আইয়ের সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম মাসুম প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অভ‌্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের বার বার নাক গলানোর প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল‌্যায়ন করা হবে কি না এবং পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ককে এগিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।

এ প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান তাদের মতামত দিয়েছে… যারা পরাজিত শক্তি, তারা কী বলল তাতে কী আসে যায়… আমরা তো আমাদের কাজ করেই যাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু হত‌্যাকাণ্ডের পর সেনা শাসনের মাধ‌্যমে ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেওয়া এবং পরে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১-০৬ মেয়াদে চার দলীয় জোট সরকারে যুদ্ধাপরাধী দুই জামায়াত নেতাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ‘তাদের’ এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সাথে আপনারা সম্পর্ক ছিন্ন করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগে দেশের ভেতরে নেন, এটাই আমি বলতে চাই।

পঁচিশ বছরের শোষণ-বঞ্চনার পর বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবিকে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শুরু করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তখন প্রতিরোধ ‍যুদ্ধে নামে বাঙালি। নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে।

একাত্তরে বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি বাহিনী এদেশেরই কিছু দোসর পেয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাতে সমর্থন দেয়; গঠন করে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী।

সেই জামায়াতের নেতা যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদকে মন্ত্রিসভায় বসিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যাকে একাত্তরের শহীদদের প্রতি ‘চপেটাঘাত’ বলা হয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আদালতের রায়ে নিজামী, মুজাহিদসহ সর্বশেষ জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকর করার পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব দিয়ে বলা হয়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত‌্যার বিচার নিয়ে পাকিস্তান ক্রমাগতভাবে যে ‘বিদ্বেষমূলক প্রচার’ চালাচ্ছে, তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি একটি বড় ধরনের আঘাত।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন- আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এইটুকুই।

আর সার্কের নিয়ম অনুযায়ী সদস‌্য একটি দেশেরও রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান সম্মেলনে না গেলে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদস‌্য দেশগুলো মিলে যে সিদ্ধান্ত নেবে, বাংলাদেশ সেভাবেই এগোবে।

সার্কের বর্তমান চেয়ারম্যান নেপাল পরবর্তী সম্মেলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের সার্ক সম্মেলনে না যাওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তান মন্তব্য করেছে, সেহেতু বাংলাদেশ সার্কে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কও চলবে, ঝগড়াঝাটিও চলবে।

সম্মেলনে সার্ক প্রসঙ্গে সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্ক থাকবে কি থাকবে না- এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে পারি না।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার কথা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সার্কের চার্টারে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি না থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সার্কের চার্টারে যা আছে, তাতে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কার্পেটের নিচে থেকে যাচ্ছে।

তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চিন্তাভাবনা করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি একক মতামত দিতে চাই না। দেওয়া উচিতও না।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সংঘাত হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো সবচেয়ে বেশি। এটি কাম্য নয়। এই অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকুক- এটিই আমরা চাই।

ভারত শাসিত কাশ্মিরের উরিতে সেনানিবাসে হামলা এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের ভিতরে জঙ্গি আস্তানায় ভারতীয় সেনাদের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’র ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা উদ্বেগের বিষয়… এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব… তারা দুই দেশ… এটা তাদের নিজেদের বিষয়।

ভারত-পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা নিজেরা বসে ঠিক করুক… এটা তাদের বিষয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছিল, তাতে এক কোটি ৩৯ লাখ ভুয়া ভোটার ছিল। তারা কী এমন নির্বাচন কমিশন চায়, যারা ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করে দেবে? এক কোটি ভুয়া ভোটার থাকলে তো আর কিছু লাগে না।

নূর চৌধুরীকে ফেরানোর পথ খুঁজতে কানাডা রাজি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ‘সুরাহা করতে’ বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে কানাডা রাজি।

শেখ হাসিনা বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি নূর চৌধুরীকে ‘যথাশীঘ্র’ দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেই নূর চৌধুরীর বিচার হবে।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৫ আগস্টের সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তিনি সেদেশের কিছু আইনি বাধার কথা উল্লেখ করেন। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক কীভাবে এই স্পর্শকাতর বিষয়টির সুরাহা করা যায় তার উপায় খুঁজে বের করার জন্য উভয় দেশের উপযুক্ত প্রতিনিধির মধ্যে বিষয়টি আলোচনা শুরু করার পক্ষে তিনি মত দেন, বলেন শেখ হাসিনা।

পঁচাত্তরে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া নূর চৌধুরী কানাডার টরন্টোতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিচারে ফাঁসির রায় হয়।

নূর চৌধুরীসহ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ছয়জন বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের দাবি রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা চালানোর কথাও বলা হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কানাডা নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এলেও প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফরে এ বিষয়ে আলোচনার উপায় খুঁজতে মতৈক্য হয়েছে বলে জানানো হয়।

এরপর নূর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে কানাডার আদালত তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদপত্রে খবর এলেও তা সঠিক নয় বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

অবশ‌্য নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ‘উপায় এখনো রয়েছে’ বলেও পরে জানিয়েছেন তিনি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জাস্টিন ট্রুডো আগামী দিনগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও সংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কৈশোরে বাংলাদেশ সফরের কথাও তিনি বৈঠকে স্মরণ করেন। জাস্টিন ট্রুডো বাংলাদেশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা পিয়েরে ইলিয়ট ট্রুডো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানকে অস্ত্র এবং যুদ্ধ বিমানের সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাঙালি শরণার্থীদের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। কানাডার জনগণও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা ২০১২ সালে পিয়েরে ট্রুডোকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করি। আমি সেই সম্মাননা স্মারকটি এবার জাস্টিন ট্রুডোর হাতে তুলে দেই।

প্রায় তিন দশক পর কানাডায় ‘উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয়’ সফর হল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় এবং গভীর হয়েছে বলে আমি মনে করি।

কানাডা সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলনের ফাঁকে জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করি। বৈঠকে ট্রুডো দু’দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানেরও প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে সেদেশের আইনি বাধার কথা উল্লেখ করেন। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক কীভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুটির সুরাহা করা যায়, তার উপায় খুঁজতে দু’দেশের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর পক্ষে মত দেন। জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং ট্রুডো তা সানন্দে গ্রহণ করেন বলেও জানান তিনি।

‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট এওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত জয় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, আর সে জন্য তিনি গর্বিত।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এই ছেলে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জন্মগ্রহণ করে। তখন আমাদের বড় দুঃখের সময়। একটি একতলা বাড়িতে আমাদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তারই একটি দিনে ওর জন্ম। তারপর আল্লাহ তাকে এতো বড় করেছে। বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে নিতে পারছে, এটাই অনেক বড় কথা। ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট এওয়ার্ড’ অর্জন করায় মা হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক গর্বের। জয় তথ্য ও প্রযুক্তি উন্নয়নে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ যে এতো দ্রুত ডিজিটাল হতে পেরেছে এ জন্য তার অবদান অনেক।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.