মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৯ নভেম্বর ২০১৬ । ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
পাহাড় কন্যা বান্দরবান এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে । আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড় কন্যা বান্দরবান দিন দিন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। দেশি বিদেশি হাজারো পর্যটক প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে ছুটে আসছে পাহাড় কন্যা বান্দরবানে। বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচে-পড়া ভিড়। যে কোন মৌসুমে আসা শুরুতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছে হাজার হাজার পর্যটক।

শহরের হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউসগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পর্যটন শহর বান্দরবান এখন মানুষের মিলন মেলা, হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। জেলা সদরের অদূরে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে একই লেকের ওপর দুটি ঝুলন্ত সেতু, যা দেশের অন্য কোথাও নেই। রয়েছে মিনি সাফারি পার্ক, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, চা বাগানসহ পর্যটক মন ভোলানো সমস্ত আয়োজন। শহরের চার কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে পাহাড়ের সাথে আকাশ মিতালী করেছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকরা নীলাচলে গিয়ে মুগ্ধ হতে বাধ্য। এখানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ সাকাহাফং, তাজিংডং বিজয়, ক্যাওক্রাডংসহ অসংখ্য পাহাড়। রয়েছে বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নিল নীলগিরি পর্যটন স্পট। যেখানে অনায়াসে মেঘের ছোঁয়া পাওয়া যায়।জেলা শহর থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি অবস্থিত। এছাড়াও রিজুক ঝর্ণা নিজস্ব গতিতে সব মৌসুমেই রয়েছে সচল।

আদিবাসী অধ্যুষিত ফারুকপাড়া শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসাচ্ছে পর্যটকরা। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়।এদিকে উপ-শহর বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি এবং কালাঘাটা রাম জাদিসহ জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
এখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে দেশী-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক। এছাড়াও রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝর্ণা, রহস্যময় বগালেক এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং ও তাজিংডং বিজয় প্রতিটি স্পট-ই এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা সাঙ্গু নদীপথে নৌকা নিয়েও ঘুরছে পর্যটকরা। সবমিলিয়ে পাহাড় কন্যা বান্দরবান এখন হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

পাশাপাশি বান্দরবানের পাহাড়ে রয়েছে মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। দেশের অন্য কোথাও এত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি নেই। আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র যে কারো মনকে ছুঁয়ে যায়। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো নিশ্চিত করা দরকার।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম