মাস্টারি বিডি ডটকম । কামাল বারি
ঢাকা । ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ । ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
আজ আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস। প্রতি বছর ডিসেম্বরের এই দিনে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি, জলবায়ু, ক্ষুধা, অভিবাসন’।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

পর্বত অপার সৌন্দর্যের লীলানিকেতন। কত অদ্ভুত উদ্ভিদ ও প্রাণি সমাহারে বেষ্টিত এই পর্বত। পর্বত এবং পর্বতকে ঘিরেথাকা সবকিছুকে তুলে ধরাই হচ্ছে পর্বত দিবসের উদ্দেশ্য। কত যে রহস্য লুকিয়ে আছে পর্বতে, পর্বতমালায়- আছে গুপ্ত গুহা, ঝর্নাধারা।
পর্বত একধারে আমাদের সৌন্দর্যের পিপাসা মিটায়- আবার পর্বত নিয়ে গবেষণা করে সেই স্থানের হাজারো বছরের ইতিহাস উদ্ধার করে আনা যায়। আর এরমধ্যদিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে। এ ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই দিবসটির উদ্ভব।
আমাদের অপরূপ এই পৃথিবীতে সমুদ্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্বত হচ্ছে সৌন্দর্যের রানী। পর্বতের বিশালত্ব, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও রহস্য- সবকিছুই মানুষকে আকর্ষণ করে।
জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, পৃথিবীতে পার্বত্য এলাকায় প্রায় ১০০ কোটি মানুষের বসবাস। এখন পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিক্ষয়সহ আরো নানা কারণে পর্বত ও পর্বতমালা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ মানুষের বসবাস পার্বত্য ভূমিতে। পাহাড়ের এই জনসংখ্যার মাঝে আবার নানা জাতিসত্তার বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। যাদের প্রত্যেকের রয়েছে অনন্য সাধারণ স্থানীয় জ্ঞান, বোধ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

এবারো বাংলাদেশে বিশ্বের মতো পঞ্চমবারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক পরিচ্ছেদ ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ক তথ্যাদি সমতলের মানুষের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলছে। মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৯২টি স্টল রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এই মেলা শেষ হবে।
পাহাড়কে একটি আঁচড়ও দিবেন না। নির্বিচারে পাহাড় কাটা থেকে বিরত থাকুন। পাহাড়ের গাছ কাটবেন না। পাহাড়ে অপরিকল্পিত চাষাবাদ করবেন না। কেননা পাহাড়ও কিন্তু শোধ নিতে জানে। আজ হয়তো আপনি হীন স্বার্থের বশবর্তী হয়ে পাহাড়ের গায়ে যথেচ্ছাচার করলেন। এর প্রতিশোধ কিন্তু পাহাড় একসময় ঠিকই নিবে। পাহাড় ধ্বসের মতো মারাত্মক ঘটনা কিন্তু এর ফলেই ঘটে থাকে। তাই আসুন, আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের বোধ বুদ্ধির পরিচয় দিতে পাহাড়ের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম