মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ১৮ মে ২০১৮ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪
তিন যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা উচিত।” তিনি আরো বলেন, “৩৭ বছর হয়ে গেছে.. একটা দলের সভাপতি হিসাবে ৩৭ বছরের বেশি থাকা বোধ হয় সমীচীন হবে না।”
নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৭তম দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শুভেচ্ছা গ্রহণের পর তিনি এ কথা বলেন।
সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “যতক্ষণ আছি.. সংগঠনকে শক্তিশালী করা দরকার।”

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “একাশি সালে আওয়ামী লীগের কনফারেন্সে আমার অজান্তেই আমাকে দলের সভানেত্রী করা হয়।”
নিজের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের মতো এতো বড় দলের দায়িত্ব চাইনি।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্টের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসাবে উঠে দাঁড়াবে, স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে; এটা যারা চায়নি তাদেরই এই ষড়যন্ত্র ছিল। তারা এই দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল।”
যারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করেছেন, তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। আর একটা শ্রেণি আছে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। তারা মিলিটারি ডিক্টেটরদের পা চেটে চলত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তারা ডেমক্রেসি দেখে না। বুটের লাথি খেলে ভালো লাগে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের আমলে ডেমক্রেসি থাকে।”

প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের জন্য নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বারবার বাধা এসেছে, আসবে; এটাই স্বাভাবিক। হত্যার (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা) বিচার করেছি। ষড়যন্ত্রের তদন্ত হয়নি, বিচার হয়নি।”
প্রাণনাশের জন্য হামলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মৃত্যুকে আমি অনেক কাছ থেকে দেখেছি। মৃত্যুকে আমি পরোয়া করি না।”
যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যারা সাক্ষী দিয়েছিল, তারা যেন কোনোভাবেই নির্যাতনের শিকার না হন; সেজন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সবাইকে নজরে রাখতে হবে; যারা সাক্ষী দিয়েছে, তাদের ওপরও কিন্তু অত্যাচার হয়েছে। এমন বহু ঘটনা আমার কাছে এসেছে।”
তিনি আরো বলেন, “সাক্ষীদের অত্যাচারের সঙ্গে জড়িতদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ হবে। তারাও সমঅপরাধী। অপরাধী হিসাবে একইভাবে বিচার হবে।”
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম