মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঝালকাঠি । ০৫ মে ২০১৮ । ২২ বৈশাখ ১৪২৪
ঝালকাঠি জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুলাচাষ। যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় গত ৭ বছর ধরে রুপালী-১ ও রুপালী-৪ জাতের তুলাচাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলার কৃষি ভিত্তিক গ্রাম গাবখানসহ এর আশপাশের এলাকায় ৭০ একর জমিতে তুলার চাষ হয়েছে। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেকার দরিদ্র মানুষের। লাভজনক ও ফলন ভালো হওয়ায় তুলাচাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন চলছে তুলা সংগ্রহের সময়। চৈত্রের শুরু থেকে সাদা তুলায় ভরে গেছে ক্ষেতগুলো। এসব ক্ষেতে তুলা সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ অঞ্চলের কৃষিতে তুলাচাষকে নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানান, উঁচু জমিতে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে তুলার বীজ বপন করা হয়। এরপর কার্তিক মাস থেকে ফুল ধরে। অগ্রাহায়ণ-পৌষে গোলাকার ফল ধরে। আর চৈত্র-বৈশাখ মাসে পরিপক্ক ফলগুলো ফেটে সাদা তুলা বেরিয়ে আসে। তখন ক্ষেত থেকে তুলা সংগ্রহ করেন চাষিরা।
এ বছর তুলার ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ হবে না বলে জানান কৃষকেরা।

২০১১ সালে প্রথমবার গাবখান গ্রামে রুপালী-১ জাতের তুলাচাষ শুরু হয়। ফলন ভালো হওয়ায় পরের বছর থেকে জেলার রাজাপুর ও নলছিটিতে রুপালী-৪ জাতের তুলাচাষ শুরু হয়।
জানা যায়, এলাকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় অত্যান্ত উর্বর। কাজেই প্রতি বছরই ভালো ফলন হয়। তবে তুলাচাষে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শুস্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষা মৌসুমে পানি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। তুলাচাষের বিষয়ে যদি কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তবে তুলাচাষ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে।
এদিকে, গাবখান গ্রামের ক্ষেতগুলো উচু জমিতে হওয়ায় পানি সেচ বেশি লেগেছে কিন্তু ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর তুলার দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছর প্রতি মণ তুলা ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছর ২৪০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এখানে প্রতি বিঘায় ১০-১২ মণ তুলা উৎপাদন হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় প্রতি বিঘায় ১৫-১৮ মণ তুলা সংগ্রহ হয়েছে।

গাবখান তুলা ক্ষেতে দৈনিক মজুরিতে যারা কাজ করেন তারা তুলক্ষেতে পানি, সার, কীটনাশক দেয় এবং আগাছা পরিস্কার করে থাকে। বর্তমানে তারা তুলা সংগ্রহে ব্যস্ত। প্রতি মণ তুলা সংগ্রহ করে মজুররা পাচ্ছে ৪০০ টাকা।
তুলা বীজ সাধারণত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে রোপণ করা হয়। তবে দক্ষিণাঞ্চলে ওই সময় মাঠে পানি থাকায় শুধু উঁচু জমিতে তুলা চাষ করা হয়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম