ঢাকা, মঙ্গলবার ২৯ জুলাই ২০২৫ মাসস
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ঋণ। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতরণ করা বিপুল অঙ্কের ঋণ এখন অনাদায়ী হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে দলটির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দেওয়া ঋণগুলো। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় নামে-বেনামে যেভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল, তার প্রকৃত চিত্র সরকার পরিবর্তনের পরই উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতরণ করা ব্যাংকঋণগুলো এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ঋণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আবার দেশের অর্থনীতিতে বর্তমান মন্দাবস্থার কারণেও বহু ব্যবসায়ীর ঋণ খারাপ হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নতুন নীতিমালার কারণেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ভালো-খারাপ প্রায় সব ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও বহুল সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে। একইভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে। এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা এবং বেসরকারি খাতের আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবি ও এনআরবি কমার্শিয়ালসহ বেশির ভাগ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে।এদিকে খেলাপি হয়ে পড়া ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক ব্যবসায়ীকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতি-সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্যাংকগুলো। নতুন নীতিমালার কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা না হলে তা মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। এরপর অনাদায়ি হিসাবে ওই ঋণ ৯০ দিন অতিক্রম করলে খেলাপি হয়ে যাবে। তবে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে গত এপ্রিল মাস থেকে। ফলে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলো হলো অগ্রণী, জনতা, সোনালী, রূপালী, ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ফল এখন স্পষ্ট। খেলাপি ঋণের লাগামহীন এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একদিকে ব্যাংকের তারল্য সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে সুদহার ও ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ছে, যা সরাসরি শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম