Home / জাতীয় / কনকনে ঠান্ডায় গবাদিপশুও কাহিল
8 26 1

কনকনে ঠান্ডায় গবাদিপশুও কাহিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ মাসস

রংপুরসহ দেশের উত্তাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত গঙ্গাচড়া উপজেলার জনজীবন। গত কয়েক দিনের কনকনে ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি  জবুথবু হয়ে পড়েছে গবাদিপশুও। এ অবস্থায় গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।এদিকে, প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে পথঘাট। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ।
আজ বৃস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কনকনে শীতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে  কৃষক ও খামারিরা। অনেকে গরু-ছাগল ঘরের ভেতর বেঁধে রেখেছেন। পুরনো বস্তা, চট কিংবা পলিথিন দিয়ে গবাদিপশু ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শিশিরে সেগুলো ভিজে যাওয়ায় পশুগুলোকে ঠিকমতো ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ঠান্ডায় অনেক গবাদিপশু কাহিল হয়ে পড়ছে, দেখা দিচ্ছে  সর্দি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ঠান্ডার কারণে পশু চরাতে না পারায় খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে দুটি ছাগলছানা নিয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন উপজেলার সদর চেংমারী এলাকার গৃহিনী জমিলা খাতুন (৫০)। তিনি জানান, ছাগলছানাগুলোর বয়স ২০ দিন। তীব্র শীতের কারণে ছানাগুলো জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে।
ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা না করালে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, এই ছাগলছানাই আমাদের পরিবারের বাড়তি আয়ের ভরসা। শীতের মধ্যে যদি ওগুলোর কিছু হয়, তাহলে বড় ক্ষতিতে পড়তে হবে।

উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইশোকুল এলাকার বাসিন্দা জয়তুন্নেসা বেওয়া (৫৫) বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর গরু-ছাগলই আমার বাঁচার ভরসা। এই শীতে ওগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি সারাক্ষণ। ঠান্ডা লাগলে যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে আমি একেবারে পথে বসব।

জয়তুন্নেসার দুটি গরু ও তিনটি ছাগল রয়েছে। শীতের কারণে পশুগুলোকে বাইরে বের করতে পারছি না। কাঁচা ঘাসও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দানাদার খাদ্য কিনে খাওয়াতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।

নোহালী ইউনিয়নের বৈরাতী এলাকার বাসিন্দা সুজা মিয়া (৫৮) বলেন, গরু-ছাগলই আমাদের সংসারের সম্বল। শীতের রাতে ওগুলোর পাশে বসে থাকি। বস্তা দিয়ে ঢেকে দিই, কিন্তু ভোরে দেখি ভিজে গেছে। তখন আবার খুলে ফেলতে হয়। তীব্র ঠান্ডায় পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, শীতকালে গবাদিপশুর পরিচর্যা ও নিরাপদে রাখার বিষয়ে খামারি ও পশুর মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সার্বিকভাবে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান …